সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।” দিবসটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন, গুডনেইবারস বাংলাদেশ, ইএসডিও’র থ্রাইভ প্রকল্প ও সিডিএ’র যৌথ সহযোগিতায় দিবসটি উদযাপন করা হয়। নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে সকালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী, শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পীরগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। আলোচনায় বক্তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ আরিফ। তিনি বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং নেতৃত্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সমাজ আরও ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া তার বক্তব্যে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের দাবি। সমাজে নারীদের প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নারীর অধিকার রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি শুধু একটি দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গণমাধ্যম, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করে নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, নারী যদি এগিয়ে যায়, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রও এগিয়ে যাবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় নারী নেতৃবৃন্দ। বক্তারা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গুডনেইবারস বাংলাদেশের ব্যানারে নারীদের অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের দাবিতে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণকারীরা স্বাক্ষর দিয়ে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এছাড়া সমাজে নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং নারী ও কন্যাশিশুর উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য কয়েকজন নারীকে “সাহসিকা সম্মাননা” ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ এলাকায় নারী শিক্ষা, সচেতনতা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই আয়োজন নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নতুন সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের পথ সুগম করবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.