খবরবাড়ি ডেস্কঃ ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয় অধিদপ্তরের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একেএম হেদায়েতুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শিরিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ লায়লাতুল হোসেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নার্গিস জাহান, মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও এনজিওর কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস মূলত শ্রমজীবী নারীদের অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক ১২ ঘণ্টার শ্রম কমিয়ে আট ঘণ্টা করা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবীতে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলনের সময় বহু নারী শ্রমিক গ্রেফতার হন এবং নির্যাতনের শিকার হন।
পরবর্তীকালে ১৮৬০ সালের একই দিনে ‘নারীশ্রমিক ইউনিয়ন’ গঠিত হয়। এরপর ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামেন এবং শেষ পর্যন্ত আট ঘণ্টা কর্মঘন্টার অধিকার আদায় করেন।
নারী শ্রমিকদের এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মান নেত্রী কারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পালিত হতে থাকে।
জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন শুরু করে। পরে ১৯৭৭ সালে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সংস্থাটি।
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের নারীরা এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। তাই নারীদের অধিকার আদায়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে।