খবরবাড়ি ডেস্কঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরে গভীর রাতে বসতবাড়ী ঘেরাও, মব সৃষ্টি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌরশহরের নুনিয়াগাড়ি (প্রফেসর পাড়া) এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে নালীতাবাড়ী থেকে আসা দুই ব্যক্তি স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় তার প্রফেসর পাড়ার বাসভবন ঘেরাও করে মব সৃষ্টি করেন। তাদের অভিযোগ, তাদের ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে মোছা. ফাতেমাতুজ ইশিকা গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেনের ছেলে আফিফ তাহসিনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে ধারণা করা হয়, আফিফ তাহসিনের ডাকে সে পলাশবাড়ীতে এসেছে।
আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তার ছেলে কখনোই ওই কিশোরীকে পলাশবাড়ীতে আসতে প্ররোচিত করেনি। তিনি বলেন, “শুধু মোবাইলে কথা বলার ভিত্তিতে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়েটির কথিত দুলাভাইসহ স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে তার স্ত্রী মোছা. বর্ণা বেগমের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক আফিফ তাহসিনের ব্যবহৃত একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিক ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। এরপরও একই দিন গভীর রাত দুইটার দিকে থানার দুইজন এসআই সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাদের বাড়িতে যান। অভিযোগ করা হয়, এ সময় স্থানীয় ৪-৫ জন ব্যক্তিও সঙ্গে ছিলেন। তারা প্রধান দরজায় আঘাত করেন এবং পরে এক প্রতিবেশী সাংবাদিকের উপস্থিতিতে দরজা খোলা হলে বাসায় প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। এ সময় আবারও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে বসতবাড়ীতে মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.