সম্পাদকীয়:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সর্বস্তরে আলোচনা চলছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা নিয়ে। এই প্রক্রিয়ায় মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো উপজেলা প্রশাসন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তাদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের কার্যক্রমের জবাবদিহিতাও জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, আচরণবিধি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। এসব ক্ষেত্রে সামান্য শিথিলতাও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
সাংবাদিক হিসেবে মাঠ পর্যায়ে দেখা যায়, অনেক সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, কোথাও আবার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব দেখা যায়। এসব বিষয় জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব।
গণমাধ্যমের কাজ হলো জনগণের চোখ ও কণ্ঠস্বর হিসেবে দায়িত্বশীল প্রশ্ন তোলা। কোন নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, অভিযোগ এলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, প্রশাসন রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে কাজ করছে কি না, এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিতভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই গণমাধ্যমের ন্যায্য ভূমিকা।
স্বচ্ছ প্রশাসন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। তাই উপজেলা প্রশাসনের উচিত গণমাধ্যমের প্রশ্নকে সহযোগী হিসেবে নেওয়া, প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়। তথ্য গোপন নয়, বরং তথ্য প্রকাশই আস্থা তৈরি করে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা একটাই নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের প্রতি শতভাগ আনুগত্য। আর গণমাধ্যম থাকবে সতর্ক প্রহরী হিসেবে, যাতে জনগণের ভোটাধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.