খবরবাড়ি ডেস্কঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গাইবান্ধার ৫টি সংসদীয় আসনে ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সবধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণের সরঞ্জমাদিসহ অন্যান্য উপকরণ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ফোর্সসমূহ ভোট কেন্দ্রে পৌঁছছে। ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা জোরদারের করণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্রিফিং করেছেন। সেইসাথে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৫টি সংসদীয় আসেন মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪৩২ জন ভোটার রয়েছে। এসব ভোটার ৬৭৫ ভোটকেন্দ্রে ৪০ জন প্রার্থীকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এখানে ৩৭৯টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন: এ নির্বাচনে ৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার জিয়াউল মোহাম্মদ আলী (ধানের শীষ), জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রমজান আলী (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কবাদী) প্রার্থী পরমানন্দ দাস (কাঁচি), আমজনতার দলের প্রার্থী কওছর আজম হান্নু (প্রজাপতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালমা আক্তার (কলস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন (ঢেঁকি)।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৩২৬, নারী ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন। ১২৩টি কেন্দ্রে তারা ভোট প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন: এ আসনের প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু (ধানীর শীষ), জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল করিম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রশীদ সরকার (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহেদুর জাহান (কলম), সিপিবি’র মিহির কুমার ঘোষ (কাস্তে) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কবাদী) প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ (কাঁচি)।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৮, নারী ২ লাখ ৮ হাজার ২৭১ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১১ জন। ১১৮টি কেন্দ্রে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসন: বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ (অব.) মাও. নজরুল ইসলাম লেবু (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয়পাটি মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী রুমান (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম আওলাদ হোসাইন (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের মো. সুরুজ্জামান সরকার (ট্রাক), জনতার দলের মনজুরুল হক সাচ্ছা (কলম), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মোছাদ্দিকুল ইসলাম (আপেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী এএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি (ঢেঁকি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৬, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৯ জন। ১৪৬টি কেন্দ্রে তারা ভোট প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন: এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, (ধানের শীষ) জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী মো. মশিউর রহমান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ তৌহিদুর রহমান তুহিন (হাতপাখা), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী আতোয়ারুল ইসলাম (কোঁদাল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দ (মোটরসাইকেল)।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৭, নারী ২ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১০ জন। ১৪২টি কেন্দ্রে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসন: এ নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়ছেন ৯ জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন বিএনপি’র প্রার্থী ফারুক আলম সরকার (ধানের শীষ), জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আজিজুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কবাদী) রাহেলা খাতুন (কাঁচি), সিপিবি’র শ্রী নিরমল (কাস্তে), স্বতন্ত্র নাহিদুজ্জামান নিশাদ (হাঁস), স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু (মোটরসাইকেল)।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯৪, নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন। ১৪৬টি কেন্দ্রে তারা ভোট প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটারদের ধারণা অতীতের চেয়ে এ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। তবে ঝুঁকিপুর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কাবোধ করছেন তারা।
প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে প্রশাসন। এখানাকার শৃঙ্খলা রক্ষায় দুর্গম চরাঞ্চলে থাকবে হেলিকপ্টার। সেইসাথে কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টুনি থাকবে। সকল কেন্দ্রেই থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। জেলা ও উপজেলা কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রগুলো মনিটর করা হবে। চরাঞ্চলের বিদ্যুৎবিহীন ১১টি কেন্দ্রে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সকল সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সবধরণের দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গাইবান্ধার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে গোটা জেলা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ১ হাজার ১৫০ জন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা-সদস্য, ১৫ প্লাটুন বিজিপি, ২ হাজারের বেশি পুলিশ, র্যাবের ১৫টি টিম, ৮ হাজার ৭৭৫ জন আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং অসংখ্য নৌ-পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.