খবরবাড়ি ডেস্কঃ মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘জনজাতির ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় করণীয় শীর্ষক’ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জনউদ্যোগ, গাইবান্ধার আয়োজনে অবলম্বন কনফারেন্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়।
জনউদ্যোগ গাইবান্ধা জেলার আহবায়ক অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ আন্দোলন গাইবান্ধার সভাপতি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ওয়াজিউর রহমান রাফেল, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি জিয়াউল হক কামাল, জনউদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবতী, গাইবান্ধা প্রেস কাবের সহ-সভাপতি রেজাউন্নবী রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক রজতকান্তি বর্মন, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের সদর উপজেলা সভাপতি গোলাম রব্বানী মুসা, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বাবু, হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, কায়সার রহমান রোমেল, নারী নেত্রী অঞ্জলী রানী দেবী, মাজেদা খাতুন, আদিবাসী যুব নেত্রী সুরভী মার্ডি, সরস্বতী মালপাহাড়ী প্রমুখ।
আলোচকবৃন্দ বক্তব্যে বলেন যে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে প্রাচীনকাল থেকে বসবাস করছেন সাঁওতাল, ওরাওঁ, মাহালী ও মালপাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ। সংখ্যা ছয় থেকে সাত হাজারের মতো। রাজাবিরাট, জয়পুর, মাদারপুর, তুলট, তল্লাপাড়া- এমন বহু গ্রামেই তাঁদের বসতি। সমতলের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় বসবাস করলেও তাঁদের নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি, উৎসব ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এখনো আলাদা বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। কিন্তু সেই বৈচিত্র্যেই আজ ঝুঁকির মুখে। ভাষা মুখে আছে- কাগজে নেই; বই নেই, নিজস্ব ভাষায় স্কুল পাঠক্রম নেই, নেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। ফলে গাইবান্ধার চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে।
বক্তরা আরো বলেন, সমতলের আদিবাসীরা বিলুপ্ত হওয়ার পথে। শুধু আদিবাসীই বিলুপ্ত হচ্ছে না, তাঁদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হচ্ছে। এরা বাংলাদেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠী। অধিকাংশই ভূমিহীন, তাঁদের হাতে ভূমি নেই। আদিবাসীরা জাতীয়তাবাদী ঘৃণার শিকার। ১৯৭১ সালের আগে আমরা যেমন পাকিস্তানিদের ঘৃণার শিকার হয়েছি, তেমনি আমরা এখন আদিবাসীদের ঘৃণা করছি।
বক্তারা আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় আলাদা মস্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, আদিবাসীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দাবী জানান।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.