খবরবাড়ি ডেস্কঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বৃদ্ধ দম্পতির জমি দখল ও নির্যাতনের ঘটনা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুত্রবধুর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জেল থেকে বের হওয়ার পর হাসানুর রহমান ও তার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে যান। আলোচনার এক পর্যায়ে পুত্রবধু উম্মে মাহবুবা সোমা গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এর আগে উপজেলার ঝালিঙ্গী গ্রামে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ দম্পতি মাহবুব ইসলাম ও তার স্ত্রী মোছা. হাছনা বেগমকে নির্যাতন ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের একমাত্র ছেলে হাসানুর রহমান ও পুত্রবধু দীর্ঘদিন ধরে জমি লিখে দেওয়ার জন্য মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগ করছিলেন। অসুস্থতার সুযোগে কৌশলে জমি লিখে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি ছেলে ও পুত্রবধু তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ব্যবহৃত বিছানা ও শীতের কাপড় পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে অসুস্থ দম্পতির অবস্থানের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিজ ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে।
ঘটনার পর মাহবুব ইসলাম বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গত ২০ জানুয়ারি মামলার আপোষে স্বাক্ষর নিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।
অভিযুক্ত উম্মে মাহবুবা সোমা স্থানীয় সাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনায় জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহম্মদ জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের আলাপচারিতা গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণের ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি দপ্তরে আনুষ্ঠানিক আলোচনার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে নতুন করে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.