খবরবাড়ি ডেস্কঃ শিক্ষিত সমাজের সামাজিক-পারিবারিক মানবিক মূল্যবোধ অবক্ষয় রোধে এগিয়ে এলেন পলাশবাড়ীর মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ।
বারংবার ছেলে এবং ছেলের বউয়ের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার অশীতিপর বৃদ্ধ শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। এ ব্যাপারে এমন বিষয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না মর্মে থানায় মুচলেকা দেয়া হলেও নিভৃত হচ্ছেন না ছেলে এবং ছেলের বউ। এমন অমানবিক-মর্মস্পর্শী ও স্পর্শ কাতর ঘটনা অব্যাহত ঘটে আসছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামে বুধবার (৭ জানুয়ারি) শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে শারীরিক নির্যাতনের চরম বেদনাদায়ক ঘটনাটি তৃতীয় বারেরমত পুনরাবৃত্তি ঘটলো। নানা ফন্দিফিকিরের ছত্রছায়ায় ফুসলিয়ে ছেলে ও তার বউ পারিবারিক জমি-জমা লিখে নেয়াসহ সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে মাতা-পিতার সাথে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার নির্যাতন, অসদাচরণ এবং ভরণপোষণ না দেয়ার অভিযোগ অবাধ্য ছেলে এবং পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী পড়শি জানায়, বাবা মাহাবুব ইসলাম দোলন (৭৫) এবং মা হাসনা বেগম (৭০) দম্পতির এক মাত্র সন্তান হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। এরআগেও দুইবার বৃদ্ধ বাবা-মাকে বের করে দিয়ে বাড়ি-ঘর তালাবদ্ধ করে দিয়েছিলেন ছেলে এবং ছেলের বউ উপজেলার সাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা আক্তার।
এদিন সন্ধায় নির্যাতিত বাবা-মা পলাশবাড়ী পৌরশহরে ওষুধ কিনতে যান। এরই ফাঁকে শয়ন ঘর থেকে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির ব্যবহৃত শীত নিবারণের লেপ-তোষক, কাঁথা-বালিশ, কম্বল ও আসবাবপত্র সমূহ ঘর থেকে বের করে বাইরে ফেলে দেন। এতেই ক্ষান্ত বা তৃপ্ত নন পুত্রবধূ। এসব শীতবস্ত্র যেন তাৎক্ষণিক ব্যবহার করতে না পারেন সে জন্য সবই পানিতে চুবিয়ে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে দেন। বাড়িতে ফিরে এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে তারা ডুকরে-ডুকরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। গগনবিদারী কান্নার আহাজারি দেখে ঘটনাস্থলে সমবেত স্থানীয়রা অবাধ্য ছেলে ও তার বউয়ের প্রতি চরম ধিক্কারসহ ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
খবর পেয়ে পলাশবাড়ী প্রেস কাব সাধারণ সম্পাদক পাপুল সরকারসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান। এর পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে থানা অফিসার ইনচার্জ সারোয়ার আলম খানকে ডেকে নেন। সুযোগ বুঝে ছেলে ও ছেলের বউ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ স্থানীয় পড়শি ও জনপ্রতিনিধির সার্বিক সহযোগিতায় নিজ বাড়ির শয়নঘরে বৃদ্ধ দম্পতিকে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেইসাথে সবধরনের আইনি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এমন অমানবিক ঘটনাটির তাৎক্ষণিক মানবিক পদক্ষেপ নেয়ায় স্থানীয়সহ সর্বমহলে কর্তাব্যক্তিরা ভূয়সী প্রশংসায় ভূষিত হন।
প্রসঙ্গত ; এঘটনায় ইতোপূর্বে গাইবান্ধা বিচারিক আদালতে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে মায়ের দায়েরকৃত বিচারাধীন মামলা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মুচলেকা দিয়ে নিষ্পত্তি করেছিলেন ছেলে হাসানুর। রবর্তীতে বাবা-মাকে নাজেহাল করতে তাদের নামে মথ্যা চেক জালিয়াতির মামলাসহ একাধিক মামলা রেন হাসানুর।
অপরদিকে; এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করবেননা মর্মে ছেলে এবং পুত্রবধূর মুচলেকা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, থানা অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতিকে তাদের ঘরে উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।
বারংবার উপর্যুপরি বাবা-মায়ের প্রতি অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। একইসাথে শিক্ষিত সমাজ তথা পরিবারের এমন সামাজিক-পারিবারিক সম্মান ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ঘটনায় এলাকার সর্বস্তরের সচেতন জনমানুষের মাঝে ব্যাপক হতাশা নেমে এসেছে।