সাকিব আহসান, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) হিসেবে দায়িত্বে থাকা ডা. মোঃ আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা, অনিয়মিত উপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা থেকে ডা. আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে তার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান না করে চার মাস দশ দিন চাকরিবিহীন অবস্থায় থেকে পুনরায় পূর্বপদে যোগদানের রাস্তা দাপ্তরিকভাবে ও কাগজে কলমে সুগম করতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, রাজনীতিকে ঢাল বানিয়ে স্বীয় স্বার্থোদ্বার করে আসছেন।
ডা. আব্দুল জব্বারের এহেন কর্মকাণ্ডের কারণে তদন্ত করার অফিসিয়াল চিঠি করলেও তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার পদায়ন পাকাপোক্ত করে কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিভাগ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এই অভিযোগসমূহ যাচাই-বাছাইপূর্বক তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ডা. আব্দুল জব্বার
নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন,
নির্ধারিত সময় অফিস করেন না,
অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেন,
কিন্তু এসবের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
হাসপাতালে না থেকেও রেফার বাণিজ্য?
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি সংসদ সদস্যের সুপারিশে নিয়মিতভাবে ২০–৩০ জন রোগী বিভিন্ন জায়গায় রেফার করেন, অথচ নিজে হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। এতে একদিকে যেমন সরকারি হাসপাতালের সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে রোগীরা বাধ্য হচ্ছেন বাইরে চিকিৎসা নিতে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো—ডা. আব্দুল জব্বার নাকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আগের তদন্ত কার্যক্রমগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনকভাবে সেগুলোর কোনো দৃশ্যমান পরিণতি হয়নি।
অভিযোগের পর এবার নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে,
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), রংপুর বিভাগ
সিভিল সার্জন, ঠাকুরগাঁও।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজে
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন,
“যদি তিনি নিয়মিত অনুপস্থিতই থাকেন, তাহলে এতদিন তাকে কে বা কারা রক্ষা করেছে?”
একজন স্থানীয় নাগরিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“হাসপাতালে গেলে অনেক সময়ই তাকে পাওয়া যায় না। কিন্তু কাগজে-কলমে সব ঠিক।”
এটা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। এখানে প্রতীয়মান হয় যে
কীভাবে রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকলে একজন সরকারি কর্মকর্তা বছরের পর বছর দায়িত্ব অবহেলা করেও বহাল তবিয়তে থাকতে পারেন।
এখন প্রশ্ন ওঠে,
রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা আসলে কার হাতে?
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.