বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যে বিভাজন, অবিশ্বাস ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি দানা বেঁধে উঠেছে, তার মাঝেই ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক ধারার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এক টেবিলে বসে আলোচনা করার মুহূর্তটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের সম্ভাব্য রাজনৈতিক রূপরেখার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে ইসলামি চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। মত ও আদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সেই ভিন্নতা যখন জাতীয় স্বার্থের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সংলাপই হতে পারে উত্তরণের একমাত্র পথ।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ ও বর্জনের চক্রে আবর্তিত। ক্ষমতার পালাবদলে রাজনৈতিক শত্রুতা বেড়েছে, সংকটের সমাধান হয়নি। এর খেসারত দিতে হয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষকে। এই প্রেক্ষাপটে বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আলোচনার টেবিলে বসা একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে, রাজনীতি শত্রুতা নয়, বরং সমঝোতার মাধ্যমও হতে পারে।
এই বার্তাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়মিত সংলাপে ফিরতে হবে। একে অপরকে কোণঠাসা করার রাজনীতি নয়, বরং ভিন্নমতের প্রতি সম্মান রেখে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলাই হতে হবে ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি।
ড. মিজানুর রহমান আজহারীর পোস্টে উঠে আসা আহ্বান তাই নিছক একটি মন্তব্য নয়। এটি সময়ের দাবি, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতার স্মারক। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সংলাপ ও সৌহার্দ্যের পথে এগোলেই নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.