খবরবাড়ি ডেস্কঃ
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড় ও প্রথমডাঙ্গা শুধু মাত্র এই দুই গ্রামেই এ বছর প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। আগে যেখানে জমিগুলো দুই ফসলির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে এখন সরিষা চাষের মাধ্যমে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর ঘটছে।
কৃষকরা জানান, সরিষা চাষ করে ঘরে তোলা ও বিক্রি করা অর্থ দিয়ে আসন্ন খরার মৌসুমে স্কিম পদ্ধতিতে ধান চাষ করলে তারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। এতে একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি বিভাগ আমন ও বোরোর মধ্যবর্তী সময়ে পতিত থাকা জমিতে সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে। সে সময় উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ৪০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর কৃষকদের আগ্রহে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। আগামীতে আরও বেশি জমি এই চাষের আওতায় আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোজ্য তেলে দেশের চাহিদা পূরণে সরকার সরিষা আবাদ বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
প্রথমডাঙ্গা গ্রামের কৃষক লাভলু মিয়া (৫০) জানান, সরকারি প্রণোদনা না পেলেও সরিষা চাষ লাভবান হওয়ার কারণে ভবিষ্যতেও তিনি এই আবাদ চালিয়ে যাবেন। তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন।
ছোট পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক রিপন মিয়া (৪০) জানান, এলাকায় বারি-১৪, বারি-৯ ও বারি-২০ জাতের সরিষা চাষ করা হচ্ছে। তিনি নিজে একশ শতাংশ জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন।
প্রথমডাঙ্গা গ্রামের আরেক কৃষক বাবলু মিয়া (৪০) বলেন, সরিষা চাষের ফলে জমি ভালোভাবে প্রস্তুত হয় এবং সার প্রয়োগের সুবিধা পাওয়া যায়। এতে পরবর্তী ধান চাষে খরচ কমে আসে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। এছাড়া গত বছরের সরিষার খড় এখনও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে জানান।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৭,৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তিনি জানান, ৪,৩৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে এক কেজি সরিষা বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে চারদিকে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ শানেরহাট এলাকার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বেসরকারিভাবে মধু উৎপাদনও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মৌচাষিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরাগায়নের মাধ্যমে কৃষকরাও পাবেন বেশি ফলন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.