শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
তারাগঞ্জে মঞ্জুরুল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ১,বেরিয়ে আসছে পরিকল্পিত খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পলাশবাড়ীতে বাসচাপায় অজ্ঞাত নারী নিহত গাইবান্ধায় খালের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু গোবিন্দগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল যুবক গ্রেফতার লালমনিরহাটে ঈদ উপলক্ষে ‘রোজ’ এনজিওর খাদ্য সহায়তা বিতরণ বিশ্বকাপ নয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব : ইরান ফুটবল প্রধান লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬ মোবাইল ও ২৪ সিম পলাশবাড়ীতে প্রথমবার মহিলাদের অংশগ্রহণে ঈদের নামাজের জামাত, প্রশংসায় ভাসছে বায়তুল করিম জামে মসজিদ আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে ঈদ উপলক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা তারাগঞ্জে সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের আর্থিক অনুদান বিতরণ

পীরগঞ্জের ৩ নং খনগাঁও ইউনিয়নের শান্তিনগরে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা যখন ‘বিনোদন’;অনিয়ম-দুর্নীতির ছায়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম!

  • আপডেট হয়েছে : শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৮০ বার পড়া হয়েছে

সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ
শিক্ষা যেখানে মানুষ গড়ার কারখানা হওয়ার কথা, সেখানে যদি অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও নৈতিক অবক্ষয় বাসা বাঁধে, তাহলে সেই সমাজের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—এই প্রশ্নই আজ ঘুরপাক খাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নং খনগাঁও ইউনিয়নের শান্তিনগর বাজার এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান এখন আর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়—বরং সময় কাটানোর বিনোদনকেন্দ্র ও দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের তীর গিয়ে ঠেকছে প্রধান শিক্ষক সন্তোষ রায়, সহকারী শিক্ষক রবিন রায় ও সুসেন রায়সহ আরও কয়েকজনের দিকে, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের রিংমাস্টারের ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যত ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক উপস্থিতি অনিয়মিত, ক্লাসে পাঠদানের বদলে গল্প, মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকা কিংবা চায়ের আড্ডাই যেন নিয়মিত দৃশ্য। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ স্কুলে আসে কেবল হাজিরা খাতায় নাম তুলতে বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে। পরীক্ষার আগে ‘বিশেষ কোচিং’ ও ‘গাইড বাণিজ্য’ যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে শিক্ষক সুসেন চন্দ্র ও রবিন রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের কোচিংমুখী করে তোলার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক বলেন, “স্কুলে পড়ানো হয় না বললেই চলে। শেষে বাধ্য হয়ে কোচিংয়ে পাঠাতে হয়। এটা শিক্ষা, না ব্যবসা?”
পাঠদানের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও গুরুতর। ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, উন্নয়ন ফান্ডসহ বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব টাকার কোনো স্বচ্ছ হিসাব অভিভাবকদের দেখানো হয় না। প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দা হরিপদ রায় বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। কষ্ট করে সন্তানদের স্কুলে দিই মানুষ করার আশায়। কিন্তু এখানে দেখি শিক্ষা নয়, শুধু টাকা তোলার ধান্দা।” নিতাই চন্দ্র পাল ও শিবু দাসও একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সবার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (শৃঙ্খলা) আইন অনুযায়ী নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৯ ধারা অনুযায়ী অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—এই অনিয়মের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তারা জ্ঞান নয়, শিখছে ফাঁকি ও অনিয়মের সংস্কৃতি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে পুরো প্রজন্মই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এখনই সময়—প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও সমাজের সম্মিলিত প্রতিবাদ।
চাইলে আমি এটাকে আরও আইনি ভাষায় শক্ত, বা আরও অনুসন্ধানী-এক্সপোজিং টোনে, বা নিউজ রিপোর্ট ফরম্যাটে রূপান্তর করে দিতে পারি।

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft