আরিফ উদ্দিনঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শৈত্যপ্রবাহে হলদে বিবর্ণ বোরো বীজতলা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভূক্তভোগী কৃষক।
পলাশবাড়ী উপজেলার নিভৃত পল্লীর কৃষকরা বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যে দিনক্ষণ ঠিক রেখে অনেক আগেই বীজতলায় বীজ বপন করেছিলেন। শুরুতে বীজতলা বেশ সবুজ ও সতেজ অবস্থা থাকলেও বর্তমানে তা হলদে হয়ে ক্রমান্বয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এ উপজেলায় অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ ও ঘণ কুয়াশার কারণে বীজতলাগুলো প্রায় বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে; বোরো চারার আশানুরূপ উৎপাদন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১২ হাজার ৬৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিমাণ জমিতে চারা রোপণের জন্য বীজতলা তৈরীর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭২ হেক্টর জমিতে এরমধ্যে অর্জিত হয়েছে ৭৬৬ হেক্টর।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কৃষি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষই কৃষি নির্ভর। বিভিন্ন ফসলের মধ্যে ধান চাষই হচ্ছে তাদের প্রধান উৎস এবং অবলম্বন। বিশেষ করে বোরো ধান উৎপাদন করেই তারা তাদের পরিবারের অধিকাংশ চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই এবারও বীজতলায় বীজ বপন করেছিলেন কৃষকরা। চারা গজানোর পর সবুজ রঙ দেখে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিলেও প্রকৃতি যেন তাতে বাধার সৃষ্টি করেছে। তীব্র শীত আর ঘণ কুয়াশায় বীজতলাগুলো এখন বিবর্ণ হলদে হয়ে মড়ক ধরতে শুরু করেছে। ফলে চরম চারা সংকটে পড়ার সমূহ আশঙ্কা করছেন তারা।
পৌরশহরের আন্দুয়া গ্রামের কৃষক আতোয়ার রহমান, গিরীধারীপুর গ্রামের ফজলু মিয়া, গাড়ানাটা গ্রামের গোফ্ফার মিয়া একই সুরে বলেন, ‘কুয়াশায় অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চারাগুলো বাঁচাতে কৃষিবিভাগের বিভিন্ন পরামর্শ মোতাবেক কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কোনো সুফল মিলছে না।
এমন সংকটের আবর্তে কৃষি বিভাগের দায়ীত্বশীল কর্মকর্তাদেরও মাঠে তেমন দেখা যাচ্ছে না।ফলে চলতি মৌসুমে বোরো চাষ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।’
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, কুয়াশায় যাতে বীজতলা নষ্ট বা বিনষ্ট না হয়, সেজন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পাশাপাশি পরিমিত সার, কীটনাশক ও পানি দেয়ার পরামর্শ ছাড়াও ব্লকে ব্লকে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ শৈত প্রবাহে বোরো ধান চাষাবাদে করণীয় সম্বলিত একটি লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.