সম্পাদকীয়ঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে নির্বাচনী গাড়ি রিকুইজিশন আবারও আলোচনায় এসেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বেসরকারি যানবাহন ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্যতা, অধিকার ও মানবিক দিকগুলো উপেক্ষিত হলে তা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
চালকরা স্পষ্ট করে বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে গাড়ি রিকুইজিশনে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সময় নিজ এলাকা থেকে দূরে গাড়ি পাঠানো হয়। এতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ হারান। একজন নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা তাদের মৌলিক অধিকার। নির্বাচন পরিচালনার নামে সেই অধিকার খর্ব হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রিকুইজিশনকৃত গাড়ি নিজ এলাকার মধ্যেই ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে এই সংকট অনেকটাই কাটতে পারে।
অন্যদিকে আর্থিক বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তেল খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে চালক ও মালিকদেরই বহন করতে হয়। নির্বাচন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হলে এর আর্থিক দায়ও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। অন্যথায় এই প্রক্রিয়া সহযোগিতার বদলে চাপ ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকেই দুর্বল করে।
গাড়ির মালিক, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের দাবিগুলো কোনো অতিরঞ্জিত আবদার নয়। এগুলো বাস্তবভিত্তিক ও যৌক্তিক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সময় থাকতেই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা। ন্যায্যতা নিশ্চিত হলে একদিকে নির্বাচন পরিচালনা সহজ ও কার্যকর হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রতি পরিবহন খাতের আস্থা ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে। গণতন্ত্রের মূল শক্তি মানুষের অংশগ্রহণে, আর সেই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।