1. arifcom24@gmail.com : Arif Uddin : Arif Uddin
  2. admin@khoborbari24.com : arifulweb :
  3. editor@khoborbari24.com : editor : Musfiqur Rahman
  4. hostinger@khoborbari24.com : Hostinger Transfer : Hostinger Transfer
  5. khoborbari@khoborbari24.com : Khoborbari : Khoborbari
  6. khobor@gmail.com : :
বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
গণভোট ২০২৬: সংস্কারের পথে জনমতের সন্ধান—বৈরচুনা থেকে যে বার্তা উঠে এল গোবিন্দগঞ্জে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কল্পে মাঠ দিবস পলাশবাড়ী পৌরশহরের উদয়সাগর গ্রামের পরিচিত মুখ মিন্টু মিয়ার ইন্তেকাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ফুলছড়ির থানা পরিদর্শন করলেন এডিশনাল ডিআইজি আমীরে জামায়াতের জনসভা সফল করতে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সমন্বয় সভা ও মাঠ পরিদর্শন উর্বর কৃষি জমির মাটি উত্তোলনের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,জনস্বার্থের মুখোমুখি অদৃশ্য শক্তি! বাংলাদেশি ফলের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে ইভ্যালির রাসেল-নাসরিন কারাগারে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ

গণভোট ২০২৬: সংস্কারের পথে জনমতের সন্ধান—বৈরচুনা থেকে যে বার্তা উঠে এল

  • আপডেট হয়েছে : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ
নির্বাচনকে ঘিরে জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা তৈরির প্রক্রিয়ায় ‘গণভোট ২০২৬’ এখন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। এই প্রেক্ষাপটে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর বৈরচুনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি ছিল সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ এক উদ্যোগ। সভায় বিতরণ করা লিফলেট ও ব্যাখ্যামূলক নোটে জুলাই জাতীয় সংসদে (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের প্রস্তাবগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয় যাতে সাধারণ ভোটাররা বুঝতে পারেন, তারা ঠিক কোন প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দিচ্ছেন।
লিফলেটের শিরোনামেই প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে উত্থাপিত: “আপনি কি জুলাই জাতীয় সংসদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সংসদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার-সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?” উত্তর দিতে হবে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’। অর্থাৎ এটি কোনো জটিল ব্যালট নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু সংস্কারপথে রাষ্ট্র এগোবে কি না সে বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার উদ্যোগ।
প্রস্তাবগুলোর সারমর্ম দাঁড়িয়ে আছে চারটি স্তম্ভের ওপর। প্রথম স্তম্ভটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গঠন ও পরিচালনা নিয়ে। প্রস্তাব অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান জুলাই জাতীয় সংসদে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এর অর্থ নির্বাচনের সময়কার প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন আইনি কাঠামোর ভেতরে আরও শক্ত ভিত্তি পাবে। ভোটারদের কাছে এটি মূলত নির্বাচন-প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের একটি অঙ্গীকার হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়।
দ্বিতীয় স্তম্ভটি জাতীয় সংসদের কাঠামোগত সংস্কার। প্রস্তাব অনুযায়ী ভবিষ্যৎ সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট—উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ। নিম্নকক্ষ গঠিত হবে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে, মোট ১০০ সদস্য নিয়ে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। এতে একদিকে প্রতিনিধিত্বের অনুপাতিক ন্যায্যতা বাড়বে, অন্যদিকে সংবিধান পরিবর্তনে অতিরিক্ত ভারসাম্য ও চেক-অ্যান্ড-ব্যালান্স তৈরি হবে,এটাই এই প্রস্তাবের মূল যুক্তি।
তৃতীয় স্তম্ভটি সবচেয়ে বিস্তৃত ও সংবেদনশীল। এর মধ্যে রয়েছে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন, সংসদীয় কমিটির সভাপতির নির্বাচন, মৌলিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমারেখা নির্ধারণসহ মোট ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সংসদে গড়ে ওঠা ঐকমত্য। প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এসব সংস্কার বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে। অর্থাৎ এটি কেবল নীতিগত ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্বাচনী ম্যান্ডেটের অংশ হয়ে যাবে।
চতুর্থ স্তম্ভটি রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সংসদে বর্ণিত সংস্কার বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করবে। ফলে ভবিষ্যতে ভোটাররা সহজেই প্রশ্ন তুলতে পারবেন—প্রতিশ্রুতি কতটা পালন হলো, আর কোথায় ব্যত্যয় ঘটল।
বৈরচুনা ইউনিয়নের মতবিনিময় সভায় এই চার স্তম্ভকে সাধারণ মানুষের ভাষায় ভেঙে ব্যাখ্যা করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, কৃষক, তরুণ ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে প্রশ্ন তোলেন দ্বিকক্ষ সংসদ বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে, কিংবা তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো কতটা কার্যকর হবে। আলোচকরা জানান, গণভোট ২০২৬-এর উদ্দেশ্যই হলো এই প্রশ্নগুলো নিয়ে জনগণের সরাসরি সম্মতি বা আপত্তি জানা, যাতে সংস্কার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক বিতর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে জনমতের ভিত্তিতে এগোয়। সভায় গণভোটের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. কামাল আহমেদ।
এই উদ্যোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন, সংসদীয় ভারসাম্য ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, গণভোট তার একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধান-পথ দেখাতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো—সংস্কার কাগজে-কলমে নয়, প্রয়োগে কতটা কার্যকর হবে সেটাই শেষ পর্যন্ত বিচার্য।
বৈরচুনার সভা থেকে একটি বার্তাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে: মানুষ কেবল ভোট দিতে চায় না, ভোটের অর্থও বুঝতে চায়। গণভোট ২০২৬ যদি সত্যিই অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ হয়, তবে এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনীতিতে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও নাগরিকের মধ্যে একটি নতুন চুক্তির ভিত্তি গড়ে দিতে পারে। আর সেই চুক্তির বীজ রোপিত হচ্ছে আজকের এই মতবিনিময় সভাগুলোতেই—যেখানে প্রশ্ন, সংশয় ও প্রত্যাশা একসঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় উঠে আসছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft