সম্পাদকীয়ঃ
উপজেলা কৃষি অফিস দেশের কৃষি উন্নয়নের মূল স্তম্ভ। এখানে বীজ, সার, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিছু প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
প্রকল্প ও উপকরণ বিতরণে সাধারণ অনিয়ম, যেখানে বরাদ্দকৃত বীজ, সার বা সরঞ্জাম প্রাপ্য কৃষকের পরিবর্তে প্রভাবশালী বা পরিচিত ব্যক্তিদের হাতে চলে যায়। ফলশ্রুতিতে প্রকল্পের সুবিধা সমভাবে পৌঁছায় না। দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণও এক বড় সমস্যা। সরবরাহ চুক্তি বা প্রকল্প অনুমোদনে ব্যক্তিগত প্রভাব প্রাধান্য পায়, আর কৃষকের প্রকৃত প্রাপ্য ভাতা বা সহায়তা দেরিতে বা কম পরিমাণে প্রদান করা হয়।
ভুয়া রেকর্ড তৈরি, মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রকল্পের হিসাব নথিতে মিথ্যা তথ্য প্রদান, সেবার স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ করছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পর্যাপ্ত পরামর্শ বা প্রশিক্ষণ না দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে সেবা না পৌঁছানো, বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা ও দরিদ্র কৃষকের ক্ষেত্রে কৃষকের জন্য সরকারি সহায়তা ভোগ করা কঠিন করে তোলে।
সরকারি সম্পত্তি বা উপকরণ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করাও একটি বড় সমস্যা। এই অনিয়মের কারণে কৃষকরা প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সরকারি প্রকল্পের প্রতি জনগণের বিশ্বাস কমে যায়।
এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রকল্প ও উপকরণ বিতরণ স্বচ্ছ ও তালিকাভিত্তিক করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং ও অডিট কার্যকর করতে হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজনে প্রতি মাসে বিভাগীয় তদন্ত চালানো, এবং কৃষকদের অভিযোগ জানাতে সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা রাখা অত্যাবশ্যক।
উপজেলা কৃষি অফিসের কার্যক্রম যদি স্বচ্ছ ও দক্ষ হয়, তাহলে কৃষকরা সরকারি সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারবে এবং স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.