শাহারুল ইসলাম,পলাশবাড়ী,গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেকারি। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন। ফলে বেকারি পণ্যের নামে আসলে মানুষ কী খাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বেশিরভাগ বেকারিতেই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। যেখানে রাখা হচ্ছে সেই কক্ষগুলোও অপরিষ্কার ও পোকামাকড়ে ভরা। অনুমোদনহীন এসব বেকারি এখন নিয়মিতভাবে কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, জেলি রুটি, লাড্ডু সহ বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করছে।
এমনই একটি বেকারি ‘নিউ ঢাকা বেকারি’ নামে বরিশাল ইউনিয়নের সাবদিন নতুন বাজারে গড়ে উঠেছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। কিন্তু সেগুলোর কোনোটিতেই নেই উৎপাদনের তারিখ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ।
১৮ অক্টোবর সকালে হোসেনপুর ইউনিয়নের ঝাপড় গ্রামে স্থানীয় এক দোকানে নিউ ঢাকা বেকারির পণ্য সরবরাহ করতে গেলে বিষয়টি আবারো প্রকাশ্যে আসে। তখন এলাকাবাসী ডেলিভারিম্যানসহ মালামালের গাড়ি আটক করে। তারা জানান, এর আগেও তারিখবিহীন পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে একই প্রতিষ্ঠানের লোকজন ধরা পড়েছিল।
ডেলিভারিম্যানকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “আমি কিছু জানি না, মালিক জানেন। আজকে তারিখ দিতে ভুলে গেছে।”
অভিযোগের বিষয়ে নিউ ঢাকা বেকারির মালিক মেনারুল ইসলাম বলেন, “আমার কম্পিউটার নষ্ট হয়েছে, তাই আজ তারিখ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে দেব।”
এ বিষয়ে রংপুর বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (পদার্থ) ও বিভাগীয় অফিস প্রধান প্রকৌশলী মুবিন-উল-ইসলাম বলেন, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান হলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আর পণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা গুরুতর অপরাধ। আগামী সপ্তাহে আমরা পলাশবাড়ীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার চেষ্টা করবো।