এম,এ মতিন,পলাশবাড়ী, গাইবান্ধাঃ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্মিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট সংযোগকারী ঘোড়াঘাট ব্রীজ বর্তমানে স্থানীয়দের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্রীজের দুই ধারে বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিশেষ করে পুরনো ও নতুন গাছের সমাহার এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন করেছে।
তবে সম্প্রতি অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এ প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্রীজ এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনে থাকা একমাত্র কৃষ্ণচূড়া গাছকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে “মীম এন্ড হাবিবা রেস্টুরেন্ট” কর্তৃপক্ষ। তাঁদের উদ্দেশ্য গাছটির জায়গা দখল করা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছর দেড়েক আগে ব্রীজটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এখানে ভিড় জমে শত শত দর্শনার্থীর। মানুষের উপস্থিতি বাড়ায় এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে ক্যাফে, ফুচকা ও চায়ের দোকান।
কিন্তু এসব অপরিকল্পিত দোকানপাট ও অবাধ জনসমাগমের কারণে এলাকাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়েছে ব্রীজ এলাকার একমাত্র কৃষ্ণচূড়া গাছটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক তরুণ জানান, “আমরা দেখেছি, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করে গাছটির গোড়ায় লবণ ও বিভিন্ন বর্জ্য ফেলছে। গাছ মেরে জায়গা দখল করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে গাছটি হলুদ হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কৃষ্ণচূড়া গাছটিকে রক্ষা না করা গেলে অন্য স্বার্থান্বেষী মহলও গাছ নিধনে উৎসাহিত হবে, যা ঘোড়াঘাট ব্রীজ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে ফেলবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্রো বলেন, “প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় আইন রয়েছে এবং বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলেই হবে না; ঘোড়াঘাট ব্রীজ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, বাণিজ্যিক স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর নজরদারি অপরিহার্য।