মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
পলাশবাড়ীতে ইউএনও’র গাড়ির ধাক্কায় শিশু গুরুতর আহত, প্রশ্নের মুখে দায়িত্ব ও মানবিকতা সাদুল্লাপুরে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ের স্বপ্ন পূরণ গোবিন্দগঞ্জে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র গাইবান্ধায় সকল জরুরী কার্যক্রম চলমান ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে গাইবান্ধার সদর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল জরুরী কার্যক্রম চলমান গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে প্রাণখোলা ঈদ আড্ডা ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে সাদুল্লাপুর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল জরুরী কার্যক্রম চলমান সাংবাদিকতা পেশা কতিপয় ব্যক্তির কারণে বিতর্কিত: তথ্যমন্ত্রী পলাশবাড়ীর ৩ ফিলিং স্টেশনে রেজিস্টার পরিদর্শন, পরিমাপ যাচাই না করায় প্রশ্ন লালমনিরহাট জেলা শহরে বাস-অটো সংঘর্ষে আহত ৮

২২ বছরেও শেষ হয়নি রমনার বটমূলে বোমা হমলার বিচার

  • আপডেট হয়েছে : শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

২০০১ সালে রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন নিহত হন। আহত হয় অনেকে। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
এই দুই মামলার মধ্যে হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়েছে। তবে ২২ বছর কেটে গেলেও বিস্ফোরক আইনের মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়নি।

এক বছর আগে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের ২৭ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করা হয়েছিল। ১৩৫ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারায় ফের মামলাটি ঢাকার প্রথম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এতে ঝুলে রয়েছে বিস্ফোরক মামলার বিচার। তবে আগামী মে মাসের মধ্যে এ মামলার বিচার নিষ্পত্তির প্রত্যাশা রাষ্ট্রপক্ষের।

বর্তমানে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি ঢাকার প্রথম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ এ মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য আদালত এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ মার্চ এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে মোট ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ওই বছরের ৩ এপ্রিল আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন সাত আসামি। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। ওইদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১১ আগস্ট দিন ধার্য করেন। পরবর্তীতে কোনও কার্যক্রম ছাড়াই ২০২২ সালের ২৮ জুলাই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালত মামলাটি আগের আদালতে ফেরত পাঠান।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ ১৪০৮ বঙ্গাব্দ) ভোরে রমনার বটমূলে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থলে দুটি বোমা পুঁতে রাখা হয় এবং পরে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওইদিন বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে একটি ও ১০টা ১৫ মিনিটের পর অন্য বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নৃশংস ওই বোমা হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন। আহত হন আরও অনেকেই। এ ঘটনায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে ওইদিনই রমনা থানার পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা করেন।

২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর শীর্ষ হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আট জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক। বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে বিস্ফোরক আইনের এ মামলা থেকে অব্যাহতি পান হরকাতুল জিহাদের এ শীর্ষ নেতা।

বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছে। আসামিরা হলেন- মাওলানা তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা আবু বকর, হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা আকবর হোসাইন, মাওলানা শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ও মাওলানা শওকত ওসমান। এদের মধ্যে  তাজউদ্দিন, আবদুল হাই ও জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌশলী মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয় না। তাদেরকে ভার্চুয়ালি কারাগার থেকে আদালতে উপস্থাপনের জন্য চেষ্টা করছি। আশা করছি আগামী মে মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হবে। ‘

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft