
সিলেট বিভাগে গত কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ হয়েছে। ঘটেছে টিলা ও পাহাড় ধসের ঘটনা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভাগে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় দেখা দিয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা তলিয়ে যায় পানিতে। বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা। গত দুদিন ধরে উজানের পানি কমতে শুরু করলেও ভাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় সিলেট বিভাগে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সিলেট জেলায় ১৪ জন, হবিগঞ্জে পাঁচজন ও মৌলভীবাজারে তিনজন।
মঙ্গলবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ৩টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক হিমাংশু লাল রায়। তিনি জানান, বিভাগে পানির প্রবল স্রোতে পড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘সিলেটের জৈন্তাপুরে মা-ছেলের মৃত্যুসহ এ পর্যন্ত বিভাগে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ১৪ জন, মৌলভীবাজারে তিন ও সুনামগঞ্জে পাঁচ জনের প্রাণহানি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আশ্রয়কেন্দ্র এবং চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আমরা এ পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। এছাড়া শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৭ লাখ পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং এক লাখ খাওয়ার সেলাইন বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে পাহাড়ি ঢল আর বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিলেট বিভাগ। তার ওপর সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া উজানের পানি নামতে শুরু করায় সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নিচু এলাকায় পানি বেড়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।