
উজান থেকে আসা ঢল ও টানা প্রবল বর্ষণের কারণে গাইবান্ধা জেলার সব নদ-নদীর পানি হু-হু করে বেড়েই চলেছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়াসহ জেলার ১১টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীবেষ্টিত ১৬৫টি চরের নিম্নাঞ্চল ডুবতে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় সেখানকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। নদ-নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব নদ-নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। শনিবার (১৮ জুন) সন্ধা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৯.৯৭ সেন্টিমিটার, তিস্তা ২৮.৯০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট ২১.৭০ সেন্টিমিটার, করতোয়া ১৮.৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে শনিবার রাতে ঘাঘটের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের চরসহ ও নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল। চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিচু অনেক স্থানের রাস্তাঘাটে পানি ওঠায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুঁসে উঠে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় পাট, তিল, কাউন, বাদাম, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের উঠতি ফসল নষ্ট হওয়ায় আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ার কারণে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, উত্তর উড়িয়া ও জিগাবাড়ী, ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, মধ্য খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী, তালতলা, কাউয়াবাধা ও নিশ্চিন্তপুর, গজারিয়া ইউনিয়নের গলনারচর ও জিয়াডাঙ্গা চর এলাকায় নিম্নাঞ্চল ডুবতে শুরু করেছে। পাশাপাশি নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে এসব এলাকার প্রায় ১৫০টি পরিবার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শরীফুল আলম বলেন, উপজেলার কামারজানি ও মোল্লারচর ইউনিয়নের বেশ কিছু চরের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবতে শুরু করেছে। এ ছাড়া কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চরে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, তিস্তা নদীর পানি বাড়ার কারণে ছোট ছোট চরের রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি চরের মানুষ।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আপাতত পানি কমার সম্ভাবনা নেই। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাগুড়িয়া থেকে কামারজানি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কিছু জায়গা বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই সব জায়গা দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। কোনো নদ-নদীর পানিই এখন পর্যন্ত বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।