
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে কালী মন্দিরের বেদখল হওয়া জায়গা নিয়ে শালিস বৈঠকে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুরা। শালিস বৈঠকে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনেই তারা দেব প্রিয় বর্মন নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা করে। গত শুক্রবারের এ ঘটনায় রোববার রাতে সদর থানায় চারজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে প্রায় দেড়শ বছরের কালী মন্দিরে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা অর্চনা করে আসছিল। মন্দিরের প্রতিবেশী মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মমিনুল ইসলাম মন্দিরের জায়গা বেদখল করে ঘর উত্তোলন করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন মন্দিরের ঘর ভেঙ্গে ফেলে অবশিষ্ট জায়গাও বেদখলের চেষ্টা করে। এ নিয়ে কয়েক দফা শালিস বৈঠক হলেও তারা সিদ্ধান্ত অমান্য করায় কোনো সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ গত ৩ জুন শুক্রবার মন্দিরের পাশেই বোয়ালী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু ও স্থানীয় মেম্বার রবিজল ইসলাম এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে শালিস বৈঠক বসে। মন্দিরের জমির সীমানা নির্ধারণের সময় চেয়ারম্যান সাবুর নির্দেশে খুঁটি পুঁততে গেলে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী দেব প্রিয় বর্মনকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে মমিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম, ছেলে সাগর মিয়া, মেয়ে মিম খাতুন মিতু ও তাদের লোকজন। তাদর হামলায় নারীসহ আরো ৫ জন আহত হন। পরে শালিসের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় দেব প্রিয় বর্মনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
এ ব্যাপারে সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, মামলাটি আমলে নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।