
রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রবিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া-বটতলা ও বড়করিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক যুবক ধর্ম অবমাননাকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট বা কমেন্ট করেছেন এমন অভিযোগে ওই যুবকের বাড়ি ঘিরে ফেলে উত্তেজনা সৃষ্টিকারীরা। এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। এরপর ভয়ে ওই যুবক সপরিবারে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ওই যুবকের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করে। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায় জানান, রবিবার রাতে বটেরবাজার মাঝিপাড়ায় সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আরও সময় লাগবে। ঘটনার পর পরই পুলিশ সুপার, র্যাব-১৩-এর অধিনায়ক, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। রাত একটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সেখানে রাতভর উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসনসহ সরকার দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পুলিশ। জড়িত সন্দেহে ৪২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কারো নাম পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে রংপুর নগরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।