
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মাঠে মাঠে আমন ধানের সবুজের সমারোহ। আমন ফসলের মাঠে সবুজ ধানের চারাগুলো দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে। তাই দেখে কৃষকের মন আনন্দে ভরে উঠছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বীজতলা তৈরীর পর জমিতে চারা রোপন করেন কৃষকরা। অবশেষে আমন ধানের সবুজ পাতাগুলো আশার আলো দেখিয়ে দোলা দিচ্ছে দক্ষিণা বাতাসে। কৃষকদের ঘরে আমন ধান উঠতে এখনো বেশকিছু দিন বাকী।
এরই মধ্যে এই আনন্দে আঘাত হেনেছে বিভিন্ন রোগ বালাই ও পোঁকামাকড়। কৃষকের স্বপ্নের এ আমন ধান ক্ষেতে রোগ বালাই ও পোঁকামাকড় দমনে এখন ব্যস্ত কৃষকরা। আমন ধানের ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রোগ বালাই ও পোঁকামাকড় থেকে তাদের কষ্টের ফসল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষাণ-কৃষানীর অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠে ইরি ও বোরোসহ নানা রকমের ধান। এ ধান-চাল দিয়েই চলে এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষকদের জীবন-জীবিকার চাকা। নতুন ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন নিয়ে কৃষকরা অক্লান্ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তাদের ধানক্ষেতে। কৃষকের স্বপ্ন ভাঙতে মাঠে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ। এসব পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকরা ছুটছেন বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে। দোকানদারদের দেয়া বিভিন্ন ঔষধ স্প্রে করছেন কৃষকরা। ওইসব ঔষধে কোন কোন ক্ষেতে কাজ হলেও আবার কোন কোন ক্ষেতে ভাল কাজ হচ্ছেনা। তাই চিন্তার মাঝে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। তবুও বুকের মাঝে বড় স্বপ্ন নিয়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তাদের রোপনকৃত আমন ধানের ক্ষেতে।
উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের কৃষক বেলাল মিয়া বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশাকরি আমন ধান ভালো হবে। এ বছর বৃষ্টি হওয়ার কারণে চাষাবাদে আমাদের খুবই উপকার হয়েছে। পলাশবাড়ী পৌরশহরের আমন চাষী জুয়েল মন্ডল বলেন, যদিও কিছুটা বৃষ্টির কারণে বীজতলা নষ্ট হয়েছে সামান্য। তাই বীজ রোপনে একটু দেরি হয়। তারপরও আমন ধানের রোপন অনেক ভালোই হয়েছে। তবে বিভিন্ন পোকার আক্রমণের জন্য অনেক কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভাসহ মোট ১৪ হাজার ১’শ ৯২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৩ হাজার ৫’শ ৭০ হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোছা. ফাতেমা কাওসার মিশু জানান, মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের আমন ধান ক্ষেতের পোকা দমনে বিভিন্ন ধরণের সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আমন ক্ষেতে পোকা দমনে কি ধরণের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমন ধানের ফলন কৃষকরা ভালই হবে বলে তিনি আশা করেন।