
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। হটাৎ তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চিলমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলাধীন হরিপুর ইউনিয়নের মাদারীপাড়া ও চর মাদারীপাড়া দুটি ওয়ার্ডের শতাধিক বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ায় ওই পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে আরও শতাধিক বাড়ী, কমিউনিটি ক্লিনিক,স্থানীয় কারেন্ট বাজারসহ শত শত একর আবাদী জমি।
শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়,ভাঙ্গন কবলিত চর মাদারীপাড়া এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে নদী তীরবর্তি মানুষের আর্তনাদে।হঠাৎ করে নদীগর্ভে বাড়ী ভিটে হারিয়ে নিঃশ^ হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ভাঙ্গন আতঙ্গে রয়েছে নদী তীরবর্তি অনেক মানুষ।কোন রকমে তাদের বাড়ী-ঘর ও গাছপালাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।এ সময় ওই এলাকায় বাশ-ঝাড়,কবরস্থান, বৈদি্যুতিক খুটি, গাছপালা,বাড়ী-ভিটেসহ আবাদী জমি নদীতে বিলিন হয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান,বুধবার(২০অক্টোবর) বিকেল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকলেও এশার নামাজের পর থেকে দেখা দেয় নদী ভাঙ্গনের তান্ডবলিলা।কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে ওই রাতেই ইলিয়াছ আলী,সিদ্দিক মিয়া,আব্দুস সালাম,মমিনুল ইসলাম,আবুল কাশেম, আব্দুর রাজ্জাক,আব্দুর রউফ,সাজেদুল ইসলাম,শামিউল ইসলামসহ অন্তত ১৫জনের বাড়ী-ভিটে ও একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলিন হয়। ঘুমন্ত মানুষজন কোনরকমে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও পড়নের কাপড়টুকু ছাড়া অন্যকিছু সরাতে পারেনি তারা। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মাদারীপাড়া ও চর মাদারীপাড়া ওয়ার্ড দুটির আ.রশিদ,মোজাম্মেল হক,ফরিদুল ইসলাম,সাজু মিয়া,আসাদুল হক,নাদেরুল ইসলামসহ আরও অন্তত ৮০জনের বাড়ী মিলে মোট প্রায় শতাধিক বাড়ী-ভিটে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।
নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা মজিদা বেগম কাঁন্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বাড়ী-ঘর নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ায় তাদের কোন থাকার স্থান নেই। তিন ছেলে,স্বামী ও ছেলেদের পরিবারসহ ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তিনি বাস করছেন বলে জানান। তার প্রশ্ন,আমরা কোথায় আশ্রয় নিবো? কিভাবে চলবো? কোন দিশা পাচ্ছি না।
৭নং চর মাদারীপাড়া ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুছ জানান, তার ওয়ার্ডে অন্তত ৫০টি পরিবার ভিটে-বাড়ী হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। আরও কত বাড়ী নদীতে যাবে তাই নিয়ে তিনি চিন্তিত।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.রফিকুল ইসলাম বলেন,ওই এলাকায় হঠাৎ করে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।