রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের নৈশকোচ ডাকাতিসহ চালক খুনের ঘটনায় পীরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর থানায় পৃথক দুই মামলার মধ্যে ডিপজল এন্টারপ্রাইজে ডাকাতির ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা সেরাজুল হক ফের এক ডাকাতকে গ্রেফতার করেছেন। এ নিয়ে দুটি মামলায় গ্রেফতার সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ জনে।
সবশেষ গত শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা কদমতলী এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য আলমগীর ওরফে আলম ফকিরকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়। সে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ এলাকার মৃত ছোটন ফকিরের ছেলে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দুটি মামলায় ৯ ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও গাড়ি চালকসহ র্যাব-১ ও ১৩ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর অদূরে আশুলিয়া এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী থানা এলাকা থেকে মোট ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেন। সেই সাথে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৬টি ছুরি, ৫টি মোবাইল ফোন, ডাকাতির আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উৎঘাটন করেছেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে র্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ডাকাত চক্রটি গত ৮ মাসে ঢাকা হতে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী ৮টি নৈশকোচের ডাকাতী সংঘটিত করেছেন। ডাকাতের কবলে পড়া নৈশকোচগুলো হলো, স্পেশাল সার্ভিস, শঠিবাড়ী স্পেশাল, সৈকত পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, জায়দা পরিবহন, ডিপজল এবং সর্বশেষ হানিফ এন্টার প্রাইজ সহ ৭-৮টি নৈশকোচ ডাকাতি করে। হানিফ গাড়ীতে যাত্রী ছদ্দবেশী ডাকাতরা পীরগঞ্জের থানা সীমানায় এসে অস্ত্রে মুখে চালককে জিম্মি করে গাড়ীর নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে ছুরিকাঘাতে চালক মনজুরকে আহত করলে পলাশবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বাসের সুপার ভাইজার বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই সূত্রে অপরাধী চক্রকে ধরতে মাঠে নামেন র্যাব-১ এর সদস্যরা। তারা দ্রুত ছায়া তদন্ত এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে অল্প সময়ের মধ্যে ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মুল পরিকল্পনা কারী গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহেশপুর গ্রামের নয়ন চন্দ্র (৩২), সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুরের চকনদী গ্রামের ড্রাইভার রিয়াজুল ইসলাম লালু (২২), ফিরোজ কবির (২০), মহেশপুরের এলাকার শাকিল মিয়া (২৫) ও আবু সাঈদ মোল্লা (২৫)।
অপর দিকে ডিপজল পরিবহন ডাকাতির ঘটনায় বাস যাত্রী অন্তর নামক এক যুবক সাদুল্লাপুর থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করে। এ মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় তিন ডাকাত। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জের জয়পুর গ্রামের মেহেদী (২৫), পলাশবাড়ী ভগবানপুরের পাপুল (২৪) এবং সর্বশেষ ঢাকা কদম তলী এলাকা হতে আলমগীর ওরফে আলম ফকিরকে (৪৫) গ্রেফতার করেন ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেরাজুল হক।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতেরা র্যাবের কাছে ঘটনা স্বীকার করে এবং চক্রটির সদস্য সংখ্যা ১০-১২জন বলে জানান। এরা দীর্ঘদিন থেকেই এ পেশায় জড়িত। তাদের সবার বয়স প্রায় ২০ থেকে ২৫ এর মধ্যে।
আইনের ফাঁকে স্বাক্ষী প্রমাণে কেই সাজা খাটবেন আবার কেই নির্দোষে খালাশও হতে পারে। কিন্তু নিজের জীবন বাজি রেখে যাত্রীদের জান মাল রক্ষার জন্য যে চালক মঞ্জুর হোসেন জীবন দিলেন, কেউ কি তার পরিবারের খবর রাখছে।