
শেষের দিকে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ। প্রায় শতভাগ হয়ে গেছে মূল সেতুর কাজ । সেতুটির উপর দিয়ে চলবে গাড়ি আর নিচ দিয়ে ছুটবে ট্রেন। সেতুটির রেললাইনের কাজে হাটাৎ ধরা পড়েছে মারাত্মক ত্রুটি । সেই ত্রুটি ঠিক করার জন্য ভাঙতে হচ্ছে সেতুর বাইরের উড়ালপথের একটি পিলার (ভায়াডাক্ট)।
শেষ পর্যন্ত ভাঙতেই হচ্ছে পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের পিলার। জাজিরা প্রা’ন্তের পি’লারে খুঁটি বাড়িয়ে সংশোধন করা গেলেও মাওয়া প্রান্তে পিলার ভাঙার কোনো বিকল্প নেই রেল মন্ত্রণালয়ের হাতে।
সেতু কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে বিভাগ পরস্পরকে দোষারোপ করছেন এমন ত্রুটির জন্য । এমনকি এই জটিলতা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হয়।
যেখানে সংযোগ সড়কের ওপর দিয়ে রেলপথটি অতিক্রম করেছে, সেখানে প্রয়োজনীয় উচ্চতার ঘাটতি রয়েছে। তাতে করে যান চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
দুই প্রান্তে উড়ালপথের মাধ্যমে মূল সেতুকে মাটির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। মাওয়া প্রান্তে উড়ালপথের (ভায়াডাক্ট-২) পিয়ার নম্বর ১৩ থেকে ১৬ পর্যন্ত মূল নকশায় তিনটি স্প্যান ছিল ৩৮ মিটার করে। সেখানে গার্ডারের ধরন ছিল প্রিকাস্ট বক্স। তাতে তৈরি হয় জটিলতার। এতে উড়ালপথের একটি পিলার ভেঙে ত্রুটি ঠিক করতে হবে।
বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। প্রথমে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৪ বছরের মধ্যে। তারপরের টার্গেট ঠিক করা হয়েছিল ২০২০ সাল।
পরে সেটা বাড়িয়ে নেওয়া হয় ২০২১ সালের জুন মাসে। এরপর অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ হবে পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ কাজ। সেতুমন্ত্রীও কিছুদিন আগে একই সময়ের কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, ভায়াডাক্টের পিলার ভা’ঙতে এর মধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। এ দুটি পিলারের নিচ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মাটি। সংশোাধিত নকশায় সেতু মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পা’ওয়া গেলেই শুরু হবে ভা’ঙার কাজ।