
গত কয়েক দিনে দেশে লক্ষ্যণীয় হারে শনাক্ত হয়েছে করোনা আক্রান্ত রোগী। যার ফলে এশিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সূচকে পঞ্চম অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ। সেন্টার ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশনের (সিআরআইডিএ) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শাহরিয়ার রোজেন সোমবার (৫ জুলাই) এ তথ্য জানান।
বর্তমানে বিশ্বে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম এবং এশিয়ায় পঞ্চম। আফ্রিকান দেশগুলো বাদ দিয়ে বিবেচনা করলে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৬তম।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইডিএ আরও জানায়, ১ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সূচক বা রিপ্রোডাকশন রেট হচ্ছে ১.৪১- অর্থাৎ সংক্রমণ প্রতি ১০০০ জন থেকে ১৪১০ জনে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের উচ্চ রিপ্রোডাকশন রেট ইঙ্গিত করে যে, বাংলাদেশ এখনও সংক্রমণের চূড়ায় পৌঁছায়নি। কিন্তু জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লকডাউন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সংক্রমণ ২-৩ সপ্তাহ পর স্থিতিশীল হয়ে আসতে পারে।
জুনের ২১-২৭ তারিখের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের ৬০টি জেলায় সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী (রিপ্রোডাকশন রেট ১.০০’র বেশি) এবং কেবল লালমনিরহাট, নওগাঁ, রাজশাহী ও সাতক্ষীরা জেলায় সংক্রমণের গতি নিম্নমুখী (রিপ্রোডাকশন রেট ১’র কম)।
সিআরআইডিএ’র বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংক্রমণের এই ভয়াবহতার কারণ মূলত দুটি। প্রথমত, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে মানুষের অনীহা এবং দ্বিতীয়ত অধিক সংক্রমণক্ষম ডেল্টা ভেরিয়েন্টের প্রভাব। কেবলমাত্র সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্ব এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এর আগে, গত ২৬ জুন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, সারাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের অবিশ্বাস্য ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। দেশে মোট ৬৪ জেলার ৫৯টিই অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের ৫৯টি জেলা অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে (সাপ্তাহিক শনাক্তের হার ১০ শতাংশের বেশি)। এর মধ্যে ৩৯টি জেলায় সংক্রমণের হার ভয়াবহ পর্যায়ের (সাপ্তাহিক শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি)।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মৃত্যুহার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। জুনের কয়েক দিন আগেও দৈনিক মৃত্যু ছিল শতকের নীছে, যা ৭-৮ দিনের ব্যবধানে বেড়ে দেড় শতাধিক জনে পৌঁছেছে ।