
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকায় আজ রবিবার জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া-রোকেয়ার সফল অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসা সেবা প্রদানের পর ছাড়পত্র প্রদান উপলক্ষ্যে ‘মুজিব শতবর্ষে রাবেয়া-রোকেয়া’র শুভ গৃহে প্রত্যাবর্তন’ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি) এর মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রাবেয়া-রোকেয়া’র ছাড়পত্র প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মাসে ‘অপারেশন ফ্রিডম’ এর মাধ্যমে জোড়া মাথা থেকে মুক্তি পাওয়া রাবেয়া-রোকেয়ার গৃহে প্রত্যাবর্তন আমাদের সবার জন্য মুক্তির প্রতীক। এই সফল অস্ত্রপচার শুধুমাত্র বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতীই নির্দেশ করেনা বরং এটি জনগনের প্রতি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়বদ্ধতারও বহিঃ প্রকাশ ঘটায়।
তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষে রাবেয়া-রোকেয়া’র শুভ গৃহ প্রত্যাবর্তন ’দিবসে রাবেয়া-রোকেয়ার মতো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদাপূরণ করাই হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকীর অঙ্গীকার।
ভবিষ্যতে রাবেয়া-রোকেয়া সিএমএইচসহ যেকোন সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে সব ধরণের চিকিৎসাসেবা নিতে পারে সে ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এ প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে ইতিমধ্যেই সিএমএইচ ঢাকা কর্তৃক শিশু দু‘টির জন্য ‘আজীবন চিকিৎসা সেবা কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ মহতি কাজটি সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনী প্রধানসহ এর সাথে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ, রাবেয়া-রোকেয়ার চিকিৎসার সাথে জড়িত সামরিক-বেসামরিক ও বিদেশী চিকিৎসকবৃন্দ এবং রাবেয়া-রোকেয়ার পরিবার এবং বিভিন্ন পদবীর সেনা সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় গত ০১ আগস্ট ২০১৯ তারিখে ঢাকা সিএমএইচ-এ হাঙ্গেরির একটি মেডিকেল টিম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ণ এন্ড প্লাষ্টিক ইনষ্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দি হাসপাতাল, সিআরপি ও শিশু হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সার্জন, চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সহায়তাকারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম কর্তৃক ৩৩ ঘন্টা ব্যাপী একটি বিরল অপারেশনের মাধ্যমে মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশু রাবেয়া ও রোকেয়ার সফল অস্ত্রোপাচার সম্পন্ন হয়।
এই সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবায় নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়ন রুপকল্প ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের পথে আরেকটি মাইলফলক সংযোজিত হলো। এ অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর চিকিৎসা ব্যবস্থা তথা রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি জাতির অবিচল আস্থা অর্জন ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই ২০১৬ সালে পাবনা জেলার অন্তর্গত চাটমোহর থানার গ্রাম্য দম্পতি মো: রফিকুল ইসলাম এবং মোছা: তাছলিমা বেগম এর ঘরে জন্ম গ্রহণ করে জোড়া মাথার জমজ শিশু (Cranopagus Twin), চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় Conjoined।
এরূপ জোড়া মাথার বাচ্চার বিযুক্তকরণ কার্যক্রমে (Operation Freedom) সফলতা অর্জনের উদাহরণ অত্যন্ত কম। এ বিযুক্তিকরণ অপারেশন (Operation Freedom) বিশ্বের ১৭তম সফল অপারেশন ও বাংলাদেশে ১ম, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞাপনের জন্য একটি মাইফলক।