
বগুড়ার ধুনট উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে জবাই জবাই খেলতে গিয়ে সহোদর বড় ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছে ছোট ভাই তৌহিদ সরকার (৫)।
গত শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের শয়ন ঘরে শিশু তৌহিদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল রোববার বিকেলে ধুনট থানায় সংবাদ সম্মেলনে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা ও ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) বলেন, শিশু তৌহিদ সরকারের পিতা আব্দুল গফুর মালয়েশিয়া প্রবাসী। শুক্রবার সকালে তৌহিদ সরকারের দাদা বাড়ির অদূরে জমিতে কাজ করছিলেন। তার মা দুলালী খাতুন বাড়ির সামনে গো খাদ্য ঘাস কাটছিলো এবং বোন সুরভী খাতুন বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে কাপড় পরিষ্কার করছিলো। শিশু তৌহিদ সরকার (৫) তার সহদর বড় ভাই সজিব সরকার (৮) নিজেদের শয়ন ঘরে জবাই জবাই খেলছিলো। এক পর্যায়ে সজিব ধারালো বটি দিয়ে ছোট ভাই তৌহিদ সরকারের গলায় ধরে গরু জবাই কিভাবে করে দেখাতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবসত গলা কেটে তৌহিদ সরকারের মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহত তৌহিদ সরকারের দাদা গত শুক্রবার থানায় আসামির নাম উল্লেখ না করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ তৌহিদ সরকারের পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সময় ওই ঘরে শিশু সজিবের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। যার কারণে ধুনট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কাফিকে প্রবেশন কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত রেখে শিশু সজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শিশু সজিব জবাই জবাই খেলতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে বর্ণনা দেয়।
আইন অনুযায়ী ৮ বছরের শিশুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। এ কারণে শিশু সজিব সরকারকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।