
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করলে দুই বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করে‘মহাসড়ক আইন’করতে যাচ্ছে সরকার। এ আইন কার্যকর হলে মহাসড়কে ত্রিচক্রযান চলতে পারবে না।
সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল জানান, মহাসড়কে ছোট যান চলতে পারবে না। পাশের সার্ভিস লেনে সেসব যানবাহন চলবে। তবে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলতে পারবে।
তিনি জানান, মহাসড়ক আইন-২০২০ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, নতুন এ আইন কার্যকর হলে মহাসড়কে ত্রিচক্রযান চলতে পারবে না। কেউ মহাসড়কের ক্ষতি করলে তার প্রতিকার ও শাস্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মহাসড়েকর একটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড আছে কত স্প্রিডে গাড়ি চলতে পারবে। সেক্ষেত্রে আমরা যদি নিয়ন্ত্রণ না করি এবং ফ্যাসিলিটিজ মানুষকে না দেই তাহলে মহাসড়ক ব্যবস্থা ঠিকভাবে চালানো সম্ভব হবে না।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও জানান, মহাসড়কের মাঝে-মাঝে আন্ডারপাস করা হবে, সেখান দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সিএনজি চালিত অটো, রিকশা চলাচল করতে পারবে। সব জায়গায় আন্ডারপাসের ব্যবস্থা থাকবে না, সেক্ষেত্রে ওভারপাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যেহেতু মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক থাকবে তাই বৃষ্টির পানি বা যেকোনো পানি যেন পরিষ্কার হয়ে যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
মহাসড়কের পাশে যেন পানির ব্যবস্থা রাখা হয় আইনে সে বিষয়ে বলা আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল বলেন, রোডের পাশে যেসব গাছ লাগানো উচিত সেসব গাছ লাগাতে হবে। কড়ই গাছ রাস্তার পাশে লাগালে ডাল-পালা সড়কে চলে আসে। সড়কে ডাল-পালা না আসে, সে ধরনের গাছ লাগাতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রত্যেক মহাসড়কে লজিক্যাল দূরত্বে ফুয়েল স্টেশন ও মানুষের রিক্রিয়েশন বিশেষ করে লংড্রাইভে যাওয়া ট্রাক চালকদের জন্য বিশ্রামের কক্ষ রাখতে হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এসব স্থাপনা করতে জায়গা নির্ধারণ করেছে। হাইওয়েতে ৮৫ কিলোমিটার গতি নিশ্চিত করতে হবে। এটা আইনে বলা নেই, এটা নির্ভর করবে সড়কটি কোন এলাকায় তার ওপর।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মহাসড়কের পাশে অবকাঠামো নির্মাণ করলে, ফসল, খড় বা পণ্য শুকালে, ক্রসিং এরিয়া বাদে অন্য জায়গা দিয়ে হাঁটলে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। অধিদপ্তরের বিনা অনুমতিতে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, তোরণ বা এ ধরনের কিছু মহাসড়কে টাঙালে এবং ধীরগতির যানবাহনগুলো নির্ধারিত লেন ছাড়া মহাসড়কে উঠলে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।