
ভাস্কর্য বিতর্কে অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। এরই মধ্যে আলেমরা ফতুয়া দিয়েই দিয়েছে ভাস্কর্য বানানো হারাম। আর এই ফতুয়ার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি প্রস্তুত করছেন আলেম সমাজ। আর এই ইস্যুতে তারা সহসাই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতেরও আশাবাদী ব্যক্ত করেছেন।
যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী এ প্রসঙ্গে বলেন, যে চিঠি দেয়ার কথা ছিল সেটি তৈরির প্রস্তুতি চলছে। আশা করা হচ্ছে দু-একদিনের মধ্যেই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে।
আলেমদের পাঁচ দফা প্রস্তাবের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে একজন মন্ত্রীর বরাতে বলা হয়েছে, উদ্ভুত এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, সহিংসতার বিষয়গুলো সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।
“আপনি যখন নিজের হাতে কোন কিছু ভাঙতে যাবেন সেটা তো বেআইনি। আর বেআইনি কোন কিছু ফেস করা সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ।”
মি. চৌধুরী মনে করেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে সমাধানে আসার পথ হচ্ছে উভয় পক্ষের আলোচনায় বসা। “তারা তাদের দাবি দিচ্ছেন, সেই দাবি নিয়ে আলোচনা হবে, বিতর্ক হবে, এমনকি তারা বড় বড় মাহফিল করবেন। কিন্তু সেখানে সহিংসতা উস্কে দেয় এমন কিছু বলা যাবে না। সব কিছু সমাধানের পথ হচ্ছে আলোচনা করা।”
ভাস্কর্য ঘিরে এরইমধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।