
জামালপুরে সরিষাবাড়িতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। সংঘর্ষ চলাকালে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরে মামুনকে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা বেগতিক দেখে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনিষ্টিটিউট হাসপাতাল ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন।
মামুনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ মামুনের ডান চোখে গত ১৮ ডিসেম্বর, শুক্রবার প্রথম অস্ত্রোপচার করে ২টি স্প্লিন্টার বের করা হয়।
অপারেশন শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মামুনের কর্নিয়াসহ ডান চোখ চিরতরে ড্যামেজ হয়ে গেছে। আরেকটি গুলি চোখের ভিতরের হাড় ভেঙে ব্রেইনের মাঝখানে বর্তমানে অবস্থান করছে।
এর পরদিন (শনিবার) মামুনকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে জাতীয় নিউরোসাইন্স ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৬ নাম্বার কেবিনে ভর্তি আছেন তিনি।
এদিকে রক্তক্ষয়ী ওই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজমত আলী বাদি হয়ে সরিষাবাড়ি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনসহ ৩২ জন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে।
এতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং গুলিবর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মামুনের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা।