
বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করার কালে এ কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং এ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে ওৎপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের ভিয়েনা ও মস্কো মিশনের মাধ্যমে এ প্রকল্পের বিষয়ে আইএইএ ও রাশিয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের গর্ব এবং এদেশের ইতিহাসের অংশ হিসেবে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এটা আমাদের জন্য একটা বড় অর্জন। পারমাণবিক শক্তিকে আমরা নেতিবাচক কাজে ব্যবহারের বিপক্ষে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এ বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার এবং পৃথিবীর মধ্যে এটা অন্যতম দৃষ্টান্ত। তবে মানুষের ভালো কাজে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আমরা সবসময় সমর্থন করি। বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে চায়। পারমাণবিক শক্তি ভালো কাজে ব্যবহারের এ প্রকল্প বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি আরো বৃদ্ধি করবে।
পরিদর্শন শেষে এ প্রকল্পের অগ্রগতিসহ সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্পের রাশিয়ার নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। যথাসময়ে এ প্রকল্পের কাজসম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় ড. মোমেন বলেন, রাশিয়া সবসময় বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠবন্ধু। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের পক্ষে তিনবার জাতিসংঘে ভেটো প্রদানসহ বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতা করে রাশিয়া। এসময় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতসহ ব্লু ইকোনোমিতে রাশিয়ার বিনিয়োগ ও সহায়তা কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এক্ষেত্রে রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং সেদেশের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে। এসময় জানানো হয়, এ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ১৬ হাজার জনবলের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে।