গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকদের ভ্রমন ভাতার প্রায় ৪ লক্ষ টাকার বিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একারণে শিক্ষকদের মাঝে মিশ্র-প্রতিক্রিয়াসহ তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলায় ২১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকদের ভ্রমন ভাতার বিল বাবদ-২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিস ১০ মে-২০২০ ১৯৪ জন প্রধান শিক্ষককদের নামের তালিকা তৈরী করে তাদের নামের বিপরীতে ১৬৮০ টাকা করে বরাদ্দ দিয়ে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৫’শ ৪০ টাকা উত্তোলন করে। পূনরায় ১৭ জুন/২০২০ একই তালিকা থেকে ৩০ জনের তালিকা তৈরী করে তাদের নামের বিপরিতে ২১’শ টাকা করে বরাদ্দ দিয়ে ৬৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে দুইবারে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আত্নসাত করে।
এ ব্যাপারে জাতীয়-আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্র- পত্রিকাসহ স্যোসাল মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হলে শিক্ষা অফিস ফাকা ভ্রমন বিলে স্বাক্ষর নিয়ে দু’ একজন মুখ চেনা শিক্ষক নেতাকে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা করে দিয়ে সমুদয় টাকা আত্নসাত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছ।
কিশোরগাড়ী ক্লাষ্টারের বড় শিমুলতলা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, আমার নিকট থেকে ফাকা ভ্রমন বিলে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে ৫’শ টাকা দিয়েছে।
হরিনাথপুর ক্লাষ্টারের হরিনাবাড়ী ১নং সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, অফিস থেকে আমার বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ আমাকে ৫’শ টাকা দিতে চায় আমি ওই টাকা গ্রহন করিনি।
হোসেনপুর ক্লাষ্টারের সাইনদহ সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুশবুন্নাহার জানান, দুই তালিকায় আমার তালিকা নম্বর (৮) অথচ আমাদেরকে ডেকে ফাকা ভ্রমন বিল ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে ৪ জন শিক্ষকের হাতের মধ্য জোর করে ৫’শ টাকা করে দেয়। কিন্তু আমরা বলেছি, ভিক্ষার টাকা নিতে আসিনি, আমাদেরকে হিসেব করে টাকা দিতে হবে, তখন শিক্ষা অফিসের দালাল খ্যাত আজাদ নামে এক শিক্ষক আমাদের ৫’শ করে টাকা নিতে বাধ্য করে।
এ ব্যাপারে আরও একাধিক শিক্ষক জানান, ভ্রমন বিলের টাকা সঠিক ভাবে না দিলে অফিসে যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বহন করতে হবে।
এ ব্যাপারে পলাশবাড়ীর সাধারন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকগণ সংস্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।