
বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি তারকা আর্জেন্টিনার ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা আজ ৬০ বছর বয়সে মারা গেছেন।
তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার
বলা হচ্ছে বুয়েনাস আয়ার্সে তার বাসভবনে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
আর্জেন্টিনার সাবেক এই ফুটবল মিডফিল্ডার এবং ম্যানেজার ম্যারাডোনার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এ মাসের গোড়ার দিকে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছিল।
বলা হয়েছিল তার অ্যালকোহল নির্ভরতার জন্য তার চিকিৎসা শুরু করা হবে।
১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সময় দলের এই কিংবদন্তি অধিনায়ক হৃদরোগে মারা গেছেন।
৩৪ গোল
করেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি ম্যাচে
২ বার
আর্জেন্টিনার টিম কাপ্টেন হিসাবে দলকে তিনি নিয়ে যান বিশ্বকাপের ফাইনালে
৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি খেলেছেন
২টিইতালিয় লিগ সেরি আ ট্রফি জিতেছেন নাপোলির সাথে
ক্যারিয়ার
সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ফুটবলারের অধিনায়কত্বে আর্জেন্টিনা ১৯৮৬র ফুটবল বিশ্বকাপ জেতে।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি তার বিখ্যাত ‘হাত দিয়ে গোল’টি করেন, যেটি ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে কিংবদন্তি গোল হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই তারকার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে আপনার আসন চিরকাল আমাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থলে থাকবে।
মারাডোনাকে গত ৫০ বছরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন বলে গণ্য করা হয়।
তিনি বার্সেলোনা এবং নাপোলির মতো ক্লাবেও খেলেছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি ম্যাচে তিনি ৩৪টি গোল করেন। চারটি বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেন।
১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা যখন ফাইনালে ওঠে তখন দলকে নেতৃত্ব দেন ম্যারাডোনা। ইতালিতে ওই খেলায় তাদের হারিয়ে দেয় পশ্চিম জার্মানি। এরপর ১৯৯৪ সালে তিনি আবার আমেরিকায় আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কত্ব করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অবৈধ মাদক পরীক্ষায় ফেল করার কারণে তাকে আর্জেন্টিনা ফিরে যেতে হয়।
তার জীবনের পরের দিকে ম্যারাডোনা কোকেন আসক্তি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন এবং ১৯৯১ সালে তার শরীরের মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়লে তাকে ১৫ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।
তার ৩৭তম জন্মদিনে ১৯৯৭ সালে তিনি পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন। সেসময় তিনি আর্জেন্টিনার বড় দল বোকা জুনিয়ার্সে খেলছিলেন।
ম্যারাডোনা ২০০৮ সালে জাতীয় দলের কোচ নিযুক্ত হন। এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জার্মানির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাবার পরে তিনি কোচের পদ থেকে অবসর নেন।
তবে কেরিয়ারের একটা বড় সময় জুড়ে তিনি মাদকের সমস্যা এবং ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে ভুগেছেন।