
স্টাফ রিপোর্টার, সরকার লুৎফর রহমানঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ইন্জিনিয়ার আবু জাহিদ নিউ এর সার্বিক তত্তাবধানে অধিক ঘনত্বে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে এগিয়ে আসছে যুবসমাজ। কর্মই জীবন এবং বেকারত্ব ঘোচাতে অাধুনিকার সাথে তাল মিলিয়ে নানা প্রকার উদ্যােগের পাশাপাশি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে যুবসমাজকে উদ্ভূত করছেন নিউ লাইফ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান প্রবাসী ইন্জিনিয়ার আবু জাহিদ নিউ। বায়োফ্লক ও বটম ক্লিনার পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় এবং সনাতন পদ্ধতির বিপরীতে উচু জায়গায় হাউজ করে অধিক ঘনত্বে এ মৎস্য চাষ করা হয়। এক থেকে ২” ইঞ্চি পরিমান মাছ হাউজে ছাড়ার পর ৪ মাসে তত্ত্বাবধানে রেখে এ মাছ বাজারজাত করা যায়। পলাশবাড়ী উপজেলায় ইতিমধ্যে বানিজ্যিকভাবে ৫ টি প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ এগিয়ে আসছে। এর মাঝে প্রথমেই রংপুর পীরগন্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নে নিজ বাসস্থান একটি মৎস্য প্রজেক্ট তৈরি করেন। এ উপজেলা মোট ৭ টি প্রজেক্ট চালু আছে। এ পদ্ধতিতে যে মাছগুলো চাষ করা হয়, কৈ, শিং, মাগুর, গোলশা বা টেংরা, তেলাপিয়া ও পবদা মাছ। হাউজ তৈরি হয় ইট ও রড দিয়ে এবং বিশেষ কায়দায় ত্রিপলি দিয়ে গোলাকার আকারে। এ পদ্ধতিতে সার্বক্ষণিক এয়ারেশনের ব্যবস্থা রাখতে হয় এবং হাউজের মাঝে উৎপাদিত এ্যমোনিয়া নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। উদাহরণ হিসেবে মোট ৭ হাজার লিটারের একটি হাউজে ২৫ মোন মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ নিউ সুদুর আমেরিকার হতে সার্বক্ষণিক এ উদ্দোক্তাদের খোঁজ খবর ও দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। তিনি রংপুর জেলার পীরগন্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নে মরহুম আবু চেয়ারম্যানের পূত্র তিনি পীরগন্জ এবং গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর উপজেলায় সর্বসাধারণের দুর্দিনে সর্ব সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছে। দেশজুরে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের মাঝে এ তিন উপজেলায় ঘরবন্দি খেটে খাওয়া দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের মাঝে কয়েক মাসে নিজেস্ব ট্রাকে করে খাদ্য সরাবরাহ করেছেন। তিনি প্রবাসে আবস্থান করলেও গঠন করে গেছেন “নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দল”। প্রয়োজনে আত্বমানবতায় ছুটে চলছে এ স্বেচ্ছাসেবক দলটি। মানতার এক ফেরিওয়ালা এ আবু জাহিদ নিউ আমেরিকায় হোটেল ব্যবসা করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সতন্ত্র পদে ৩১ গাইবান্ধা পলাশবাড়ী -সাদুল্যাপুর আসন হতে নির্বাচন করেন। এ উপজেলায় যুব সমাজের সাথে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে ভালোবাসেন এবং তাদেরকে কর্মের দিকে ধাবিত করেন। বায়োফ্লক ও বটম ক্লিন পদ্ধতিতে বানিজ্যিক ভাবে চাষ করতে হলে ২ থেকে ৪ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। প্রয়োজনে অল্প পরিসরেও এ চাষ করা যায়। মৎস্য চাষ করে কর্মসংস্থান তৈরি করা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই মূলত লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, ইন্জিনিয়ার আবু জাফর নিউ এবং সফলভাবে অত্র এলকায় এগিয়ে আসছে যুব সমাজ। পলাশবাড়ী পৌর এলাকায় নর্দান ফিস ফার্মিং এর মামুন মিয়া জানান, আমাদের এ প্রজেক্টে মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা এখানে শিং,তেলাপিয়া, টেংরা, কৈ ও পবদা মাছ রয়েছে। গত ২ নভেম্বর এ প্রজেক্টটি চালু করা হয় এবং এ বসর ডিসেম্বরের শেষের দিকে মাছ বাজারজাত করা হবে। আমরা এ বিষয়ে বেসরকারি ভাবে একদিনের ট্রেনিং নিয়ে এ প্রজেক্টের সিদ্ধান্ত নেই। এখন পর্যন্ত সব স্বাভাবিক রয়েছে ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হতে যাচ্ছি। এছাড়াও একই গ্রামে মামা ভাগ্নে ফিস ফার্মের প্রধান শিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, নিজেস্ব জায়গায় প্রজেক্ট করার পরও মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ৪ লক্ষ্য টাকা। সবসময় আবু জাহিদ নিউ ভাই খোজঁ খবর ও সাহস জোগাচ্ছে। এক সপ্তাহ হলো শিং কৈ টেংড়া ছাড়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সফল হতে পারলে ১ বিঘা (৩৩ শতকে এক বিঘা) পরিমান জমিতে এ প্রজেক্ট প্রসারিত করা হবে। উল্লেখিত পদ্ধতিতে মৎস্য চাষে এগিয়ে আসছে যুবসমাজ এবং মাছে ভাতে বাঙ্গালী চিরচেনা ঐতিহ্য রক্ষা ও বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে মৎস্য উৎপাদনে আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে ১ম স্থানে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টায় যুবসমাজ। সরকারীভাবে আরও দিক নির্দেশনা ও সহযোগীতার আশাবাদী এবং পরিত্যক্ত জলাধার ও পুকুরকে বানিজ্যিকভাবে মৎস্য উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসার সচেতনমূলক প্রচার প্রচারণা অতি জরুরি বলে মনে করছেন আবু জাহিদ নিউ #