
ফ্রান্সে বিশ্বশান্তির দূত, আখেরী নবী, বিশ্বনবী রহমাতাল্লিল আলামীন মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা:) ব্যঙ্গচিত্র ও মুসলিম-ইসলাম কটুক্তি নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোর ভুমিকার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ অভিমত প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।
ন্যাপ বলেন, মহানবীকে (সা:) অবমাননায় বিশ্ব মুসলিমকে অপমান ও ক্ষুবদ্ধ করেছে ফ্রান্স। মহানবী (সা.)কে কটাক্ষ করে অবিবেচকের মতো মন্তব্য করে সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
তারা বলেন, বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অধিকার কারো নাই। হযরত রাসুল (সা.) এর অবমাননা মুসলিম উম্মা কোন অবস্থাতেই বরদাশত করে না, করতে পারে না, করবে না।
নেতৃদ্বয় বলেন, হযরত রাসুল (সা.) মানবজাতির সর্বশেষ আদর্শ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কেউ রাসুলকে (সা.) মহব্বত না করলে সে ঈমানদার হবে না। যারা ইসলাম ও রাসুল (সা.) এর বিরুদ্ধাচারণ করেন তারা না বুঝে করেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স মুসলমানদেরকে উস্কে দিয়ে জঙ্গী অপবাদ দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। ইসলামবিরোধী শক্তি জিহাদ ও জঙ্গিবাদকে পার্থক্য করে দেখে না।
ইসলামের প্রতি ম্যাক্রোর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে তার “মানসিক চিকিৎসা করানো প্রয়োজন” মন্তব্য করে তারা বলেন, এটা দুর্ভাগ্য যে, যারা সহিংসতা ছড়ায় সেসব মুসলিম, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী বা নাৎসি আদর্শবাদীদের পরিবর্তে তিনি ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে ইসলাম ভীতি ছাড়ানোয় উৎসাহ দিচ্ছেন। এটা দুঃখজনক যে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো তার নিজের জনগণসহ মুসলিমদের ইচ্ছা করে উসকে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী (সা:)-কে অবমাননায় বিশ্ব মুসলিম ব্যথিত ও ক্ষুদ্ধ। ‘ইসলাম নিয়ে বিশ্ব সংকটে আছে’ ম্যাক্রোর এ বির্তকিত ও ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের পর সরকারী ভবনে মহানবী (সা:) অবমাননাকর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন একই সুত্রেগাঁথা।
তারা বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ইসলাম ধর্মের প্রতি চরম অবমাননা এবং মুসলমানদের হৃদয়ে ছুরিকাঘাতের শামিল। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় সহিংসতা ও উগ্রবাদকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফ্রান্স সরকারের ভূমিকা বিশ্ববাসীকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।
তারা বিশ্বব্যাপী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ফ্রান্সের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি মুসলিম বিশ্ব,ওআইসি এবং বিশ্বের শান্তিকামী জনতার প্রতি আহ্বান জানান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সকল বাংলাদেশীকে ফ্রান্সে সকল পণ্য বর্জন করার আহবান জানান।