
আশুলিয়ায় মাদ্রাসার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়ায় শ্রীপুর এলাকার জাবালে নূর কওমি মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই মাদ্রাসারা দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেন শিক্ষক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। নির্যাতনের সেই ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
নির্যাতনের শিকার এক শিক্ষার্থী জানায়, তার এক সহপাঠী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যায়। পরে তাকে খুঁজে নিয়ে এসে মাদ্রাসার ভেতর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায় শিক্ষক ইব্রাহিম। এসময় তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তাকেও নির্মম ভাবে বেত্রাঘাত করে জখম করেন ওই শিক্ষক।
ধামসোনা ইউপি মেম্বার মোনতাজ উদ্দিন ও এলাকাবাসী জানায়, দুই বছর আগে এই এলাকায় ছয় তলা ভবনের চতুর্থ তলায় ১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আবাসিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে কওমি মাদ্রাসাটি। তবে ইব্রাহিম ও ওবায়দুল্লাহ নামে হাফেজ দিয়েই চলতো প্রতিষ্ঠানটি। ১১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায় শিক্ষক ইব্রাহিম। সোমবার শিশুদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ফেসবুকে ভাইরাল করে স্থানীয়রা। এরপরই এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে শিক্ষক ইব্রাহিমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এসময় অপর শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকেও জিজ্ঞাসবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহির উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।