
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রচলিত সরকারী বিধি লঙ্ঘন করে আন্দুয়া বিলে বৈয়ত নেমে মাছ ধরায় চলমান লীজ গ্রহণকারীর অপূরনীয় ক্ষতিসাধন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রতি বাংলা বছরের ন্যায় এবছরও পলাশবাড়ী পৌরশহরের আন্দুয়া বিল () সরকারি ভাবে ইজারা প্রদানে দরপত্র আহবান করা হয়। লীজ গ্রহনে স্থানীয় ভাবে আগ্রহীরা নিরুৎসাহিত থাকায় পর-পর কয়েক দফা দরপত্র স্থগিত থেকে যায়। সময়ের ব্যবধানে সর্বশেষ আগ্রহী বেশ কয়েকজন উৎসাহী ব্যক্তি দরপত্রে অংশ নেয়। তন্মধ্যে পৌরশহরের নুরপুর গ্রামের খায়রুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা দর উল্লেখ করায় পরবর্তি একবছর মেয়াদে জলাশয়টি (বিল) তার নামীয় ইজারা বন্দোবস্ত অনুমোদন করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনভর বিদায়ী ইজারা গ্রহনকারী দুরভিসন্ধিমূলক উক্ত বিলটিতে অবৈধ পন্থায় গণ বৈয়তের ডাক দেন।
আবেদন সূত্র জানায়, চলতি বাংলা বছরের বিপরীতে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউপি ভূমি অফিসের অধীনে চলতি ইংরেজী বছরের গত ২১ জুন বাংলা ১৪২৭ সনের জন্য দরপত্রে উল্লেখিত সমুদয় ৪ লাখ টাকা একত্রে পরিশোধ সাপে বিলটি ইজারা প্রদান সম্পন্ন করা হয়।
অপরদিকে; গত ১৪২৬ বাংলা সনের লীজ গ্রহণকারীর মেয়াদ গত সনের চৈত্র মাসে শেষ হয়। কিন্তু; এরপর অলিখিত ভাবে উদ্বৃত্ত আরো ২ মাস পেরিয়ে যায়। ২ মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে বিদায়ী ইজারা গ্রহনকারীর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আরো একমাসসহ রহস্যজনক গত ২৩ জুলাই ২০২০খ্রি. পর্যন্ত সময় অনুমোদন করেন।
সর্বশেষ ২৩ জুলাই উল্লেখ করে সম্পূর্ণ বে-আইনি পন্থায় বিদায়ী ইজারাগ্রহনকারী সংঘবদ্ধ চক্রগণ মাইকিংয়ের মাধ্যমে বহুল প্রচার করে আন্দুয়া বিলটিতে বৈয়তের ডাক দেয়। চলমান ভয়াবহ করোনা কালে সামাজিক নিরাপদ দুরুত্ব বজায় পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক জনসমাগমের প্রেেিত অপ্রত্যাশিত আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার সমূহ সম্ভাবনার বিষয়টি উপো করে বৈয়ত ডাকা হয়।
প্রসঙ্গত; সদ্য লীজ গ্রহনকারী ওই বিলে মাছ চাষের খেত্রে ভবিষ্যত পরিকল্পনায় বিল সংলগ্ন পৃথক দু’টি পুকুরে মাছ সংরক্ষণ করে রাখে। বৈয়তের কারণে ওইসব সংরতি পোনামাছ সমূহ বিনষ্ট হয়ে ব্যাপক তিসাধন হয়। সেইসাথে বৈয়তে আসা গণমানুষকে লেলিয়ে দিয়ে বিলটিতে মাছ শিকার করার পাশাপাশি পুকুরে রতি পোনামাছ ধরাসহ পুকুরের পাড় ধ্বসে ফেলায় ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য চলমান মৎস্য সপ্তাহ পালনে সরকারি বিধি-নিষেধের কোন তোয়াক্কা না করে মাছ শিকারের বিষয়টি স্থানীয় ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনাসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান নয়নকে সামগ্রিক বিষয়টি অবগত করা হলেও কোন প্রতিকার না মেলায় নতুন লীজ গ্রহনকারী ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে নব্য ইজারা গ্রহনকারী অনুমোদিত ইজারার সময়সীমার সাথে উদ্বৃত্ত আরো ৬ মাস সময় বর্ধিত করণে পৃথক দু’টি আবেদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।