
১৭ জুলাই শুক্রবার সকাল ৮টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হাজির হয় তিন কিশোরী। তাদের সবার বয়স ১৩/১৪ বছর ।
তারা জানায়, হরিনাবাড়ীতে মিম নামে এক মেয়ে বয়স ১৪ বছর, তাকে জোর করে তার বাবা ও মা রাজশাহীতে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে নেয়ার জন্য ১টি কার আসে।
গত ৩ মাস ধরে রাজশাহীর জনৈক জলিল নামে এক লোকের (ডিম ব্যবসায়ী) ভাড়া বাসায় মিমের বাবা ও মা থাকত। মিমের বাবা ডিম বিক্রির সহায়তা করতো।
তার মা অন্যান্য কর্মচারীদের রান্নাবান্না করতো।
রান্নার পর মিম খাবার বাটিতে করে জলিলের রুমে দিয়ে আসত। জলিলের রুমে যাওয়ার সুযোগে মিমের সাথে বিভিন্ন সময় খারাপ আচরন সহ অস্বাভাবিক ব্যবহার করতো জলিল। জলিলের ব্যবহার সম্পর্কে মিম তার বাবা ও মাকে বলার সাহস পায় নাই। গত ৮/১০ দিন আগে মিম তার বাবা ও মা সহ গ্রামে আসলে সেখানে তার বান্ধবী সহ চাচীদের বিষয়টি খুলে বলে মিম ।
১৭ জুলাই শুক্রবার সকাল ৭টায় কার গাড়ী তাকে নেয়ার জন্য আসলে মিম রাজশাহীতে যেতে চায় না।
কিন্তু মিমের বাবা ও মা অধিক টাকা ও বেতনের লোভে মিমকে জোর করে গাড়ীতে করে নিয়ে যেতে ধরে।
এ সময় স্থানীয় লোকজন মিমের স্বজনসহ ও বান্ধবীরা মিমের বাবা ও মাকে সেখানে নিয়ে যেতে নিষেধ করে।
কিন্তু মিমের বাবা ও মা কারও কথা না শুনে গাড়ীতে করে মিমকে নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
এমতাবস্থায় মিমের ৩ বান্ধবী হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এসে বিষয়টি কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ রাকিব হোসেনকে জানালে তিনি অফিস হতে বের হবার পুর্বেই কার গাড়ীটি নাকাইহাট পার হয়ে যায়। পরে ইন্সপেক্টর রাকিব গাড়ীর ড্রাইভার এর নাম্বার সংগ্রহ করে কৌশলে গাড়ী ফেরত আনেন।
পরবর্তীতে মিমের মুখে বিস্তারিত শুনে জানা যায়, রাজশাহীর জনৈক জলিল একজন বয়স্ক লোক। তার ২ জন বউ ও সন্তান আছে। তিনি খারাপ প্রকৃতির। তার সাথে খারাপ আচরন করে। তাকে বিয়ে করতে চায়।
বিয়ে করে ভারতে নিয়ে যাবার কথা বলে। তার মা ও বাবাকে টাকা দিয়েছে আরো দিবে। তার ভাইকে চাকুরী দিতে চেয়েছে। মিমের কথা বিস্তারিত শুনে সে রাজশাহীতে না যেতে চাওয়ায় তাকে তার চাচার জিম্মায় প্রদান করেন ইন্সপেক্টর রাকিব। তার বাবা ও মাকে রাজশাহীতে জোর করে না নিয়ে যাবার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়।
হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ রাকিব হোসেন জানান, ঘটনাটি শোনার পর আমি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি, এবং সব বিষয় শুনে কিশোরী মিম তার চাচার জিম্মায় প্রদান করি। তিনি আরও বলেন, বাবা ও মাকে সন্তানদের সন্তানের মত দেখতে হবে। তাদের সাথে শিশু সুলভ আচরন করতে হবে। যাতে তারা তাদের মনের না বলা কথা গুলো বলার সুযোগ পায়। অন্যায়ভাবে শুধুমাত্র টাকার প্রয়োজনে কারও কাছে বিক্রি হওয়া যাবে না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা যাবে না।