
মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব কিছুতেই থামছে না। প্রতিদিনই দ্রুত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা। প্রতিদিনই বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায়ও নতুন করে আরও ২ হাজার ৯২৮ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এইসময়ে মধ্যে সারা দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফলে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৭ হাজার ৪৫৩ জন হয়েছে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৯১ শতাংশ ও এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত বুলেটিনে সংযুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৩২৯টি। পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬২টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১০ লাখ ৪১ হাজার ৬৬১টি নমুনা।
কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯১৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৫৫৬ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে শূণ্য থেকে ১০ বছর বয়সী ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২০ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪ জন ও ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৯০ থেকে ১০০ বছর বয়সীদের মধ্যে ১ জন রয়েছেন।
এ পর্যন্ত বয়সভিত্তিক মৃত্যু শূণ্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, দশমিক ৬৭ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৯ জন, ১ দশমিক ০৯ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮০ জন, ৩ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরে ১৮২ জন, ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরে ৩৮১ জন, ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরে ৭৮৭ জন, ২৯ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ১ হাজার ১৯১ জন, ৪৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, যে ৫০ জন গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১ জন, খুলনা বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, সিলেট বিভাগে ৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭ জন, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ২ জন করে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৪২ জন, বাড়িতে ৮ জন।
এ পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৩০৫, ৪৮ দশমিক ৯১ শতাংশ; চট্টগ্রামে ৬৭৩ জন, ২৫ দশমিক ২২ শতাংশ; রাজশাহী ১৪৪ জন, ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ; খুলনা ১৭৩ জন, ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ; বরিশাল ১০০ জন, ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ; সিলেটে ১২৫ জন, ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ; রংপুরে ৯০ জন, ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং মংমনসিংহ বিভাগে ৫৮ জন, ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৮২৩ জন, ছাড় পেয়েছেন ৮০২ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ৪২ হাজার ৯৭০ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৩৫৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬১২ জন।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৮৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ১২ হাজার ৮৮১ জন। ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৬ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৯ হাজার ৪৩২ জন।