
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারীর বাড়ি থেকে সরকারি বরাদ্দের ১৮৪ বস্তা চাল উদ্ধার করে র্যাব।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব বাদী হয়ে এ ঘটনায় বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলার আসামিরা হলেন, কেদারপুর ইউপি নুরে আলম বেপারী (৪৫), তার ভাই মো. শাহে আলশ বেপারী (৩৮) ও সামছুল আলম বেপারী (৩০) এবং উপজেলার রাজকর গ্রামের বাসিন্দা ও চালের ডিলার মো. সেন্টু খাঁ (৪৫)।
র্যাব-৮ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউপির চেয়ারম্যান নূরে আলমের ভূতেরদিয়ার গ্রামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি দল। এ সময় চেয়ারম্যানের তিন তলা ভবনের নিচতলায় একটি রুমের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের ১৮৪ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। সরকার থেকে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ওই চাল ১০ কেজি করে কম দিয়ে বাকিটা আত্মসাত করা হয়।
ওই ঘটনার সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের নুরে আলম ছাড়াও তার দুই ভাই এবং ডিলার জড়িত। অভিযুক্ত ডিলারও ইউপি চেয়ারম্যানের আপন চাচাত ভাই। তবে র্যাবের অভিযান টের পেয়ে চেয়ারম্যান নুরে আলম ও তার সহযোগীরা সবাই আত্মগোপনে গেছেন। উদ্ধারকৃত চাল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল ওজনে ১০ কেজি করে কম দেওয়ার অপরাধে কেদারপুর ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাকির হোসেন (৩২) ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রোকনুজ্জামানকে (৩৮) আটক করে র্যাব।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত হালদার মোবাইল কোর্টে তাদের এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রাতের ওই অভিযান ছাড়াও আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় বাবুগঞ্জ উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করছে র্যাব-৮। তারা উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপনের গোডাউনে তল্লাশি করে বিপুল পরিমান চাল পেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অভিযানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নেতৃত্বে থাকা র্যাবের এএসপি সুকুমার চাকমা।