
কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত গোটা বিশ্ব যা মোকাবেলায় একের পর এক লকডাউনে বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস প্রকোপে একপ্রকার গৃহবন্দী হয়ে ঘরেই দিন কাটছে সবার। তবে যাদের ঘর নেই, যারা নগরীর ফুটপাতে বা টার্মিনালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাত কাটায় বা যারা দিন আনে দিন খায় এমন নিম্ন আয়ের মানুষদের অবস্থা খুবই করুণ।
করোনার বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। কিন্তু যাদের ঘর নেই?
রাতের ঢাকা নগরীতে নিয়ন আলোয় খোলা আকাশের নিচে বাসটার্মিনাল কিংবা রেলস্টেশনে থাকা ছিন্নমূল মানুষেরা এ ভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের জন্য নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার কেউ নেই।
এদিকে , দিনমজুরী করে বেঁচে থাকে দেশের এরকম প্রায় সাত লক্ষ মানুষের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে না খেয়ে থাকার দশা হয়েছে। এ অবস্থায় হত দরিদ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং দিন মজুর গোষ্ঠিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেবার পরামর্শ দিচ্ছেন বিভিন্ন মহল।
এ প্রসংগে গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ড: নাজনীন আহমেদ কর্মহীন অসহায় মানুষদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইতোমধ্যে সমাজের সচ্ছল ও বিত্তশালীদের অনেকেই এ সময় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রাজধানীতে, ‘মিশন সেভ বাংলাদেশ’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রদান করা হচ্ছে। আজ শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনে সাত শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে ১০ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় চাল, তেল, লবণ, সাবান এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও এই উদ্যোগের স্বেচ্ছাসেবকরা গুলশান ডিসিসি মার্কেট ও মহাখালী এলাকা জীবাণুমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ইতোমধ্যে এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি ২৭ লাখ তিন হাজার ৫৫৯ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
রাজধানীর বাইরে সপ্তাহখানেক ধরে লকডাউনে থাকা শিবচর উপজেলায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে দুই হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রীসহ ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে শিবচর পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড, পাঁচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ও দক্ষিণ বহেরতলা ইউনিয়নের একটি গ্রামকে লকডাউন করা হয়।