
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্স কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির দাফনে অংশ নিয়ে পদদলিত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪৮ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার ইরানের ইনকিলাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কেরমানে দেশটির জনপ্রিয় এই জেনারেলের জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের স্থপতি হিসেবে পরিচিত কুদস ফোর্সের শীর্ষ এই জেনারেলকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়।
সোমবার সকালে যখন জেনারেল সোলেইমানির মরদেহ ইনকিলাব চত্বরে পৌঁছায় তখন লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয় তেহরান। পরে সেখান থেকে তার মরদেহ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত এই জেনারেলের জানাজায় নেতৃত্ব দেন।ইরাকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের অঘোষিত সেনাপতি ও দেশটির ক্ষমতাধর জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে চিরবৈরী ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও চরমে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধ ও পাল্টা হামলার হুমকি দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিতও দিচ্ছেন অনেকে।
সোমবার তেহরানে জেনারেল সোলেইমানির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির লাখ লাখ মানুষ কুদস ফোর্সের নিহত এই প্রধানের জানাজায় অংশ নেন। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিনিহত জেনারেলের জানাজা নামাজ পড়ানোর সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জানাজা শেষে কুদস ফোর্সের প্রধানতে হত্যার বদলা নিতে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানার নির্দেশ দেন। তেহরান বলছে, তারা প্রতিশোধের সম্ভাব্য ১৩টি উপায় ঠিক করেছে। বিপ্লবী গার্ডের প্রধান হোসেইন সালামি জানাজায় উপস্থিত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আগুনে পুড়িয়ে দেবে ইরান।