
চীনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শতাধিক। মূলত উহান প্রদেশ থেকেই ছড়াচ্ছে ওই ভাইরাস।
আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য উহান সেন্ট্রাল সিটিতে ১০ দিনের মধ্যে নতুন হাসপাতাল বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। তার কাজ চলছে জোর কদমে। ৩ ফেব্রুয়ারি নতুন হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উহান সেন্ট্রাল সিটিতে হাসপাতাল নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়েক ডজন ট্রাক। তার সঙ্গে রয়েছে মাটি খোঁড়ার যন্ত্র। হাসপাতালের আয়তন হবে ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার। তাতে একইসঙ্গে হাজার রোগীর চিকিৎসা হতে পারবে।
সূত্রের খবর, চীনে এই মুহূর্তে ৮৩০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলিতে যথেষ্ট সংখ্যক বেড নেই। তাই নতুন হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের মোকাবিলা করার জন্য বেজিং-এর অল্প দূরে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন হাসপাতাল তৈরি হয়েছিল। ২০০২-০৩ সালে ওই রোগে চীনের মূল ভূখণ্ডে মারা গিয়েছিলেন ৩৪৯ জন। হংকং-এ মারা গিয়েছিলেন ২৯৯ জন।
ইতিমধ্যে চীনের উহান-সহ মোট তিনটি শহরের প্রায় দু’কোটি মানুষকে শহর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে সরকারি তরফে। এমনিতেই এই সপ্তাহে চীনা নববর্ষ উপলক্ষে প্রচুর মানুষ ছুটি কাটাতে এদিক ওদিক যান। কিন্তু এইবার প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সৌজন্যে লাগাম পরানো হয়েছে সেই আনন্দ উদযাপনেও।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে জনপ্রিয় ও জমজমাট শহর উহান এখন কার্যত নিঃশব্দ। বহু গণপরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক কোটিরও বেশি সংখ্যক মানুষকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। যেন আসন্ন মহামারীর প্রহর গুনছে শহরটি।
উহানের সি-ফুড মার্কেট থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রথম আশঙ্কা করা হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর ওই ফউড মার্কেটেই কাজ করা এক ব্যক্তির মধ্যে অজানা সংক্রমণের হদিস মেলে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সেই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল তাঁর স্ত্রীর মধ্যেও।
চিকিৎসকরা বলেছিলেন, এই ভাইরাসের সংক্রমণ সার্স ভাইরাসের মতোই, প্রাণঘাতী। তার পর থেকেই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে উহান-সহ চীনের নানা প্রান্তে। সূত্র- দ্যা ওয়াল।