
বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় চীনা নাগরিকের নাম থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চীনা নারী ‘জোয়াং জিং’ হাতে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি)। তবে বর্তমানে তার এনআইডির স্ট্যাটাসে ‘ডিলিট’ লেখা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ায় সম্প্রতি ওই নারীর নামে ফৌজদারি মামলা করার জন্য মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য ফেনী সদর উপজেলার এক পিয়নের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
সম্প্রতি ফেনী সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে ইসির সহাকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, চীনা নাগরিক ‘জোয়াং জি’ (এনআইডি নং- ১৯৮৬৩০২২৯০৯০০০০১৮) মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ১৮ অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এছাড়া এ বিষয়ে ফেনী প্রশাসনের কাছে দেয়া ইসির এক অনাপত্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘চীনা নাগরিক আয়েশা জোয়াং জিং আক্তারকে জন্মসনদ ও নাগরিত্ব সনদের ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাকে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে প্রত্যায়নপত্র ইস্যুকারী ফেনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম রীটার, জন্মসনদ ও নাগরিক সনদ ইস্যুকারী সিন্দুরপুর ইউপির চেয়ারম্যান নূর নবী ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আলমগীর এবং নিবন্ধন ফরমে শনাক্তকারী ও যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষরকারী বা সহায়তা প্রদানকারী ফেনীর দাগনভূঞার কৌশল্যা গ্রামের মো. বেলাল হোসেন ও ফেনী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কমিশনার সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অনাপত্তি জ্ঞাপন করেছেন। পরবর্তী বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য প্রেরণ করা হলো।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সহাকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন জানান, আমরা এ বিষয়ে অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র ‘লক’ করে দিয়েছি। এটি দিয়ে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।