
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পিডিবি (নেসকো) বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা চলছে দীর্ঘদিন। সঠিকভাবে বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছেনা বৈরি-
হরিণমারী পূর্বপাড়া ও দুর্গাপুর এলাকাবাসী। উপজেলার চারপাশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও পৌরসভার দক্ষিনে বৈরিহরিণমারী গ্রামের পূর্ব পাড়া ও দুর্গাপুর (নয়াবাজার) রাস্তার চিত্র একেবারে অন্যরকম।
বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আর অবহেলার কারণে অত্র এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। যা দেখেও না দেখার ভান করে আছে বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন এলাকাবাসী জানান, ২০০২ সালের দিকে এ বিদ্যুৎ এর সংযোগ প্রদান করে বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ। পলাশবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরে পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি সিমেন্টের পোল দেওয়া হয়েছে ২০১৮ সালে। অপরদিকে ঐ এলাকার আয়নালের বাড়ীর সামন হতে দক্ষিনে জীবন্ত বাঁশবাগানের ভিতর বাঁশকে খুটি হিসেবে ব্যবহার করে পানের বরজের উপর দিয়ে চলে গেছে এবং তারগুলো এলোমেলো ও প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গাছ-গাছালিতে।
বিদ্যুৎ গ্রাহক রানা মন্ডল জানান, এলাকায় তাঁর ছিড়ে গেলে নিজেকেই লাগিয়ে নিতে হয় এবং অধিকাংশ সংযোগের তারের মাথায় হুক করে রাখা হয়। এবং প্রয়োজনে বিদ্যুৎ এক ফেসে না থাকলে তা পরিবর্তন করে গ্রহক নিজেই।
শাহিন মিয়া জানান, এলাকায় প্রায় ১ হাজার বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে এবং তা অমানবিক ভাবে অবহেলায় রাখা হয়েছে। এখানে কয়েক বছর আগে এক শিশু স্কুল থেকে বাড়ী ফেরার পথে রাস্তায় পড়ে থাকা তারের সাথে পা জরিয়ে মারা যায়। এঘটনার পরবর্তীতে গরু ছাগল আহত ও মৃতু হয়েছে।
গ্রামের রাজা মিয়ার পুকুরপাড়ে একটি ছোট খুঁটি হতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে ১৭ জন। এখানে প্রতিটি সংযোগের মাথায় হুক দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত
বিদ্যুৎ গ্রাহক আলমগীর মিয়া জানান, সন্ধ্যার পর ফ্যান চালালে টিভি চলেনা, অনেকেই ফ্রিজ বন্ধ করে রেখেছে এবং কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এ গ্রামে একটি রাইস মিল আছে ওটা চালু হলে হারিকেনের আলোর মতো আলো জ্বলে। ঐ গ্রামের রাজা মিয়ার পুকুরপাড়ে ১টি জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ছোট খুঁটি থেকে ১৭ জন গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে। সেখানে প্রতিটি সংযোগের মাথায় হুক লাগানো হয়েছে।
নতুন বাজারে যাওয়ার রাস্তার ইউক্লিপটাস গাছগুলো বিদ্যুতের ঝুলন্ত তার গুলো ধরে রাখছে। বর্তমানে এলাকাবাসী নিজ উদ্যােগে গাছের খুটি, বাঁশ পুতে বিদ্যুৎ সেবা গ্রহণ করছেন।
জমি মালিক ও বিদ্যুৎ গ্রাহক শরিফুল ইসলাম জানান, আমার পানের বরজে আমি কাজ করতে পারছিনা কাচা বাঁশের বাতি ছাউনি দিতে গেলেই তারের সাথে বিদ্যুৎতায়িত হওয়ার ভয় থাকে। একারণে আমি ভয়ে ভয়ে জমিতে কাজ করছি।
শাহিন এন্ড রায়হান চাল কলের সামন হতে একটি ড্রোপ তারের মাধ্যমে পূর্বে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় এ বিদ্যুৎ এর সংযোগ রয়েছে। এর সাথে সাথে গ্রাহকের তার মিলে একটি এলোমেলো অবস্থার মাঝ দিয়ে গাছের ডাল, বাঁশের খুঁটি ও সুপারির গাছ বেয়ে এ লাইনগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঐ এলাকায় একটি গ্রামীণফোন মোবাইল টাওয়ার রয়েছে। বর্তমানে ১টি মাত্র সিমেন্টের খুঁটিসহ বাকি ১২টি স্টিল পিলার আছে। যাহা বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। বিদ্যুৎ অফিসে দীর্ঘদিন থেকে যোগাযোগ করা হলেও এ জনদূর্ভোগ লাঘব হচ্ছে না এলাকার মানুষের। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সরকার ফিলিং স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বের একটি ট্রান্সমিটার দ্বারা এ বিদ্যুৎসেবা প্রদান করছে পলাশবাড়ী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। পূর্ব পাশে এমন জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে রাস্তার পশ্চিম পাশের ভোক্তাদের চড়ম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘক্ষন বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হয়।
পলাশবাড়ী পৌরসভা এলাকায় এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র হতে দু’কিলোমিটার দুরর্ত্বের মধ্যে এ বিদ্যুৎসেবায় অতিষ্ট এলাকাবাসি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনাসহ অতি দ্রুত একটি পরিকল্পিত বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে এলাকার অার্থ সামাজিক উন্নয়ন ও শিল্পক্ষাতকে এগিয়ে নিতে জোর দাবী জানিয়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহক ও এলাকার সচেতন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী পিডিবি উপকেন্দ্র আবাসিক প্রকৌশলি মোঃ আলিমুল ইসলাম (সেলিম) “খবরবাড়ী ২৪ ডট কম”কে জানান, আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি এখন এ লাইনগুলো স্ট্যান্ডার্ড করার জন্য সকল কাজ প্রক্রিয়াধীন এবং কয়েকদিন পর ২০২০ সাল এ সালেই পরিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎসেবা প্রদান করা হবে #