
শিশু নির্যাতন ও হত্যায় জড়িতরা কঠোর সাজা পাবে বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যারা শিশু নির্যাতন ও হত্যায় জড়িত থাকবে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা পেতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, উপদেষ্টা তরফদার রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সচিব কেএম সহিদুল্লাহ ও শিশু আকিয়া আবিদ।
শেখ রাসেলের বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন, সরকার চায় যে, কোনো শিশু হত্যার শিকার হবে না এবং সব শিশু যাতে সুন্দর পরিবেশে বাঁচতে পারে। ‘প্রতিটি শিশুর থাকবে অর্থবহ জীবন। সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য,’ বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ রাসেলকে হত্যা এবং খুনিদের রক্ষায় আইন করার বিশাল প্রভাব সমাজের ওপর পড়েছিল।
‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা শিশুদের অমানবিক নির্যাতনের কিছু ঘটনা দেখছি। যদি সেই সময় (১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর) যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে এ ধরনের কাজ করতে মানুষ অন্তত ভয় পেত,’ বলেন তিনি।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় শিশু তুহিন হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী অবাক হয়ে যান যে কীভাবে একজন বাবা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে। ‘কী বিকৃত মানসিকতা!’
প্রধানমন্ত্রী দেশের শিশু, কিশোর ও তরুণদের সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। সেই সাথে তিনি সবাইকে সততার সাথে জীবনযাপনের অনুরোধ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি শিশুর ভেতর সুপ্ত চেতনা, মনন ও শক্তি রয়েছে।
শেখ রাসেলের জীবনের নানা পর্যায় বর্ণনা করে তিনি বলেন, রাসেলের ছিল এক দরদি মন। ‘যদি সে বেঁচে থাকত তাহলে দেশের জন্য অনেক কিছু করত।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বকনিষ্ঠ ভাই শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হন।
ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সাথে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সূত্র: ইউএনবি