
ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার প্রতিবাদে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ সাব্বির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ পুলিশ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পুলিশের সঙ্গে রোববার ‘তৌহিদী জনতা’র সংঘর্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে পুলিশসহ শতাধিক। সংঘর্ষে আহত ৪৫ জনকে ভোলা সদর ও ৩০ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকিদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।
নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসা ছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় মুসলিম ঐক্য পরিষদকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জেলায় চার প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।